গৌরীপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ২০ দোকান

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে আগুনে পুড়ে গেছে ১৬ দোকান। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গৌরীপুর  বাজারের ফার্নিচার মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে ১৬ টি দোকান সম্পূর্ণ ও চারটি আংশিক পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ফার্নিচার, হার্ডওয়ার, ফ্রিজ এসি, পাওয়ার পাম্পের দোকান রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে লাগা আগুন মুহুর্তের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থল পৌঁছে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই মালামালসহ ১৬ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে সকাল সাড়ে দশটায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মারুফ হোসেন। 
ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে ১০টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং রমজান উপলক্ষে  মজুত রাখা খেজুরের গোডাউনসহ মোট ২০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, আগুনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটেই কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।

মা বাবার দোয়া নামে ফার্নিচার দোকানের মালিক সুজন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,  আমার দুটি শোরুমে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিওর লোন কিভাবে পরিশোধ করবো, আমারতো সব শেষ করে দিয়েছে।

আধুনিক হার্ডওয়ার দোকানের মালিক মোশাররফের দশ লাখ, বিসমিল্লাহ এসি ফ্রিজ সার্ভিং সেন্টারের মালিক আল আমিন প্রায় ১২ লাখ, ইসমাইলের ফার্নিচার দোকানের প্রায় ৩০লাখ টাকার মালামালসহ প্রাথমিক হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের ধারণা ।

স্থানীয় দোকান মালিক মোশারফ মেম্বার বলেন, এখানে ব্যবসায়ীরা সবাই  দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতো। আমার কয়েকটি দোকানঘর ভাড়া দিয়ে দিয়েছিলাম, ব্যবসায়ীদের মালামালসহ আমার ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৫-৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দাউদকান্দি  উপজেলা ফায়ার স্টেশন অফিসার এরশাদ  হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট এবং চান্দিনা ও কুমিল্লাসহ মোট চারটি ইউনিট   ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এরমধ্যে ১৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া কয়েকটি দোকানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ আবদুল হালিম জানায়, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।