রাজনৈতিক কারণে রাশিয়া ও বেলারুশকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে ফিফা সভাপতি

রাশিয়া ও বেলারুশের জাতীয় দল আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরতে পারে কি না—এই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো দেশকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।

স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের কাজের জন্য কোনো দেশকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। এতে কিছুই অর্জিত হয়নি, বরং আরও হতাশা ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্য জায়গায় ফুটবল খেলতে পারে, সেটা সহায়ক হতে পারে। অন্তত যুব পর্যায়ে হলেও আমাদের এটা করা উচিত।’

২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের চার দিন পর ফিফা ও উয়েফা যৌথভাবে রাশিয়া ও বেলারুশের সব জাতীয় দল ও ক্লাবকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে। ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘ফিফা কাউন্সিল ও উয়েফার নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে রাশিয়ার সব জাতীয় দল ও ক্লাবকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। তারা ফিফা ও উয়েফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না।’

এই সিদ্ধান্তের ফলে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে পারেনি রাশিয়া। এরপর থেকে রাশিয়া ও বেলারুশের দলগুলো বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ের কোনো টুর্নামেন্টেই অংশ নিতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলের পক্ষ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

১৯৯২ সালে বলকান যুদ্ধের সময় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে যুগোস্লাভিয়াকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ইউরো ১৯৯২ থেকেও তারা বাদ পড়ে, যেখানে ডেনমার্ক শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়। ইনফান্তিনো আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি উন্নত হলে ফুটবল আবার বিশ্বে ঐক্য ও শান্তির প্রতীক হয়ে উঠবে ‘ফুটবল বিশ্ব পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ এবং ইউক্রেনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত ভালো হবে, যাতে ফুটবল আবার শান্তি ও ঐক্যের মাধ্যম হতে পারে।’