আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ বিএনপিকে পছন্দ করছেন বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। এছাড়া ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া নতুন ভোটারদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জরিপে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করে। সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন বা ভোট না দেওয়ার কথা বলেছেন।
ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি। মোট উত্তরদাতার ৬৭.৩ শতাংশ দুর্নীতিকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও পরিচয় বা ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে অধিকাংশ ভোটার এমন নেতৃত্ব চান, যিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম। তারা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে সহমর্মিতা, জবাবদিহি ও শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। বেশিরভাগ ভোটার একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য নেন, যা প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কারচুপি ও ব্যালট ভর্তির আশঙ্কা প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।
জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, অনেক ভোটারের কাছে দল নয়, প্রার্থী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রার্থীকে বিবেচনায় নেন। এর মধ্যে ৩০.২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতে ভোট দেন, আর ৩৩.২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনা করেন।
সারা দেশের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।