প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ভোটারদের অজানা শংকা কাটছে 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার জমতে শুরু করেছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় সাধারণ ভোটারদের অজানা আশংকা ক্রমে কাটতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ভোট বঞ্চিত এলাকার ভোটাররা এবারের ভোটের আমেজ গ্রহণে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করার কথা শুনা যাচ্ছে। 

এই আসনে ছয়জন প্রার্থী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছে। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, (উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান),  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মতি উল্লাহ নূরী,  ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র  প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ( ফুটবল) এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির  প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন। 

প্রার্থীরা নির্বাচনী বিজয়ের ফসল  নিজ ঘরে তোলার জন্য ইতিমধ্যে হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন দুইটি ওয়ার্ডে আপন প্রতীকের ফেস্টুন লাগিয়ে নিজের প্রার্থীতা ভোটারদের জানান দিচ্ছে। নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে কর্মী সমর্থক নিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে,  শব্দ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রচার, উঠান বৈঠক, দৃশ্যমান স্থানে প্রার্থীর অফিস স্থাপন করে প্রচারনায় নেমেছে। দীর্ঘদির পর সারা দেশের মত এই সংসদীয় আসনে ভোটের আমেজ পরিলক্ষিত হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে । পথে-প্রান্তরে, রাস্তা-ঘাট ও দোকানে চলছে নির্বাচনী আলাপ আলোচনা ও ভোটের সমীকরণ। 

চায়ের দোকানে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমে জমে উঠতে শুরু করেছে। শীতের সাথে নির্বাচনী উৎসবে কাঁপছে গ্রাম মহল্লা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রচারনায় মহিলা সংগঠনের প্রচার প্রচারনা চোখে পড়ার মত। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা এবার ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণের বড় ফ্যাক্টর বলে অনেককে মন্তব্য করতে শুনা যাচ্ছে। 

একটি গোষ্ঠীকে বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্ভী মনে করে বর্তমান সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধীতাকারীরা সেই সম্প্রদায়ের কাছে ভোট চাইতে না যাওয়ার মানসিকতা থেকে এবার বের হওয়ার বিষয়টি ছিল লক্ষনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্র উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যাপক ভাবে প্রচার প্রচারনা চালানো  হচ্ছে। 

ভোটারদের নিঃসকোচে ও নির্ভয়ে কেন্দ্র আনার জন্য যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হচ্ছে। নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্র আসার জন্য ভোটারদের আশ্বস্ত করতে প্রত্যেক ভোট কেন্দ্র সি সি ক্যামরা স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে  জানানো  হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যেক কেন্দ্র পুলিশের বডি ক্যামরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বডি ক্যামরা স্থাপনের যাবতীয় কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ও জানানো হয়েছে। 

ভোট কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্ট্রাইকিং ফোর্স, চারজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ আয়োজিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় অবহিত করা হয়েছে। 

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারনা তৎপরতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রায় প্রত্যেকে এই সংসদীয় আসনকে  মডেল হিসাবে গড়ে তোমার অঙ্গীকার করেছেন ভোটারদের। ইসলামী দলগুলো বিশেষ করে দশ দলীয় জোটের প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশাসনকে  অনিয়ম দূর্নীতি মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে।