বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলমের আনীত ৪টি অভিযোগের মধ্যে ২টির সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, ‘কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কমিটি।’
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জাহানারা একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। জাহানারা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বরাবর চিঠি দিয়েও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান পাননি। ৩১ জানুয়ারি স্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে বিসিবি জানিয়েছে, ‘সাবেক বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পর্যালোচনা করা ঘটনাগুলো পূর্ববর্তী বোর্ডের মেয়াদের। তা সত্ত্বেও, অভিযোগগুলো সামনে আসার পরপরই বর্তমান বোর্ড বিষয়টিকে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বের সঙ্গে সমাধানের লক্ষ্যে গত নভেম্বর ২০২৫-এ একটি পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিম এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. নাঈমা হক (সদস্য, বাংলাদেশ ল’ কমিশন), ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা। প্রতিবেদনটি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সভাপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কমিটি। উল্লেখ্য, বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে। কমিটি তার আচরণকে পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে এবং পর্যবেক্ষণ করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ‘হয়রানি’র সংজ্ঞায় পড়ে। স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, বিসিবি তাদের ‘হয়রানি ও অসদাচরণ’ বিষয়ক জিরো-টলারেন্স নীতির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনি দলকে নিয়োজিত করেছে। বোর্ড তার নিজস্ব বিধিবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
একই সঙ্গে বিসিবি আরও জানিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখন থেকে একটি অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে, ‘বিসিবি হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের রায় অনুযায়ী একটি ‘অভিযোগ কমিটি’ (ঈড়সঢ়ষধরহঃ ঈড়সসরঃঃবব) গঠনের মাধ্যমে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিসিবি পরিচালক ও নারী উইং কমিটির চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলা এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কমিটিকে একটি স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’