ফেসবুক বুস্টিংসহ ডিজিটাল প্রচারণার ব্যয় হিসাব দিতে হবে ইসিতে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনলাইন কার্যক্রম যেন বিদ্যমান বিধিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি বা এজেন্টদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রচারণা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এছাড়া আচরণবিধিমালায় অনলাইন প্রচারণার ব্যয় নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রচার, বুস্টিং কিংবা স্পন্সরশিপ বাবদ যে কোনো খরচ নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এসব ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে এবং তা প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার পরিমাণ ও ব্যয় স্বচ্ছভাবে নজরদারির আওতায় আনতে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সে জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, তার বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইসি আশা করছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে।