শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বেহাত হওয়া জমি ও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে একাট্টা হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একাত্মতা ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি গবেষণার স্বার্থে এই মাঠ ফিরিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির কোর কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম এই কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একসময় ২৯৮ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল। কিন্তু ৮০ দশকে এরশাদ সরকারের আমলে একটি বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতছাড়া হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র ৮৭ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, শেকৃবি এখন ছয় হাজার সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের গবেষণার জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই মাঠ পুনরুদ্ধার করা অপরিহার্য।
অধ্যাপক রফিক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই জমি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছিল যা বর্তমানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। এটি সরকারি সম্পত্তি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে থাকলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখবে।”
সভায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অধ্যাপক তারিক বলেন, একসময় এই মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম ছিল, যা এখন কেবলই স্মৃতি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে কোনো বড় অট্টালিকা নির্মাণ করবে না, বরং মাঠটি গবেষণার জন্য ব্যবহার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।
এছাড়াও প্লানিং হেড সরোয়ার হোসেন সভায় মাঠের একটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন। যেখানে প্রতিটি অনুষদের জন্য আলাদা গবেষণা প্লট, ক্রপ মিউজিয়াম, আধুনিক ফার্ম অফিস ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির মতো এই মাঠ রক্ষায় তারা পিছুপা হব না। যেকোনো স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা এই দাবি আদায় করবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরফান আলী এবং প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ফিরোজ মাহমুদও এই দাবিকে যৌক্তিক অভিহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
সমাপনী বক্তব্যে আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৮৬ সালেও এই মাঠ আমাদের ছিল। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এই পরিবারের কাছ থেকে মাঠ ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বান জানান এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।