প্রশাসনের আশ্বাসের পরেও টানা ৫দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের কয়েকশো শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এম মাহবুবউজ্জামান একাডেমিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ব্যতিক্রমী হিউম্যান লেটারিং মাধ্যমে বার্তা তুলে ধরেন। এসময় তাদের দাবির সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের পঞ্চম দিনে গড়ালো।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি তোমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীকাল ডিন কাউন্সিলের সভায় আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরব।
এসময় তিনি সমস্যার সমাধানে চলমান উদ্যোগের বিভিন্ন অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) এএসভিএম অনুষদের সেমিনার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অনুষদের ডিন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। বৈঠকে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অ্যালামনাই, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দুটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যারা বিষয়টি সমাধানে সরাসরি কাজ করবেন। তবে বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার আহ্বান জানানো হলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, কম্বাইন্ড ডিগ্রি এর জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কোড চালু, প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভাতা এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং টিএ-ডিএ চালু।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই ক্লাসে ফিরব না। একই সঙ্গে তারা জানান, আন্দোলনটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৪৭তম বিসিএসে শেকৃবি থেকে প্রায় ৪০ জনেরও অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এএসভিএম অনুষদের ১৮ শিক্ষার্থী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিলেও টেকনিক্যাল ক্যাডারে তাদের কেউই সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। তাদের ধারণা, আবেদন কোড বা সংশ্লিষ্ট কোনো কারিগরি (টেকনিক্যাল) জটিলতার কারণে এমনটি হয়েছে। আগের কোনো বিসিএসে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেনি। এরপরই বিভিন্ন দাবি-দফা নিয়ে অনুষদের সকল শিক্ষার্থী একসাথে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
নিয়ম পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের পথ ফিফাই সহজ করে দেয়