নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাইলকোনা গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মোস্তফা আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাধারণ মানুষের যেখানে দুটি কিডনি থাকে, সেখানে মোস্তফার শরীরে ছিল বিরল তিনটি কিডনি। এর মধ্যে একটি স্বাভাবিক, অন্য দুটি একটু ছোট আকারের যমজ কিডনি। প্রতিটি কিডনি থেকে মূত্রথলি পর্যন্ত আলাদা আলাদা ইউরেটর। এই বিরল শারীরিক গঠনের কারণেই আজ তার জীবন বিপন্ন বলে জানিয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা। প্রসাবে যন্ত্রাণা, পুঁজ পড়া নিয়ে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন মোস্তফা। তাই বাঁচার জন্য সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আবেদন তার।
উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের সাইলকোনা গ্রামের কৃষক ছায়দুর রহমান ও রাবেয়া বেগম দম্পতির ছেলে মোস্তফা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন হাসিখুশি ও ক্রীড়াপ্রেমী। তিনি একজন ভালো ক্রিকেট ও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লীগ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছেন। পাশাপাশি ফুটবলও খেলতেন। তবে সংসারে অভাবের কারণে জেলা বাইরে নিজের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাননি তিনি। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০১৭ সালে সাইকোনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে বাগাতিপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অল্প বয়সেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোস্তফা। বর্তমানে তার ৬ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অভাবের পরিবারে তার চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান মোস্তফা। হামিম গ্রুপে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কোম্পানির সহায়তায় তাকে জয়দেবপুর পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই প্রথম ধরা পড়ে তার কিডনি জটিলতা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পরীক্ষায় জানা যায়, তার শরীরে সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা তিনটি কিডনি রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিরিয়াল বিলম্ব হওয়ায় পরে কাকরাইলের ইসলামী সেন্ট্রাল হাসপাতালে যমজ কিডনির একটি অপারেশন করা হয়। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের সময় একটি কিডনির কিছু অংশ শরীরে রেখে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ জটিলতার সৃষ্টি করে। সেখান থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি শুরু হয়। এর তিন মাস পর চাচাতো ভাইয়ের সহায়তায় পিজি হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে আরও দুটি অপারেশন করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো অর্থ ব্যয় হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। মোস্তফা জনান, বর্তমানে তার শরীরে অনেক ধরনের ওষুধ রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার শরীরে ‘সুডো-মোনাস’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে গেছে বলেও ডাক্তারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মোস্তফার মা রাবেয়া বেগম জানান, ছেলের চিকিৎসায় ১২-১৩ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। তার যখন যন্ত্রণা হয় তখন মাটিতে গড়াগড়ি করে। জমি, গবাদিপশু যা ছিল, সব বিক্রি করে চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখন আর তাদের কিছুই নেই। তাই তিনি তার ছেলেকে বাঁচাতে মানবিক সহায়তা কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, এ অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।