দলবদল ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সৌদি আরবের শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য- কোনো ব্যক্তি যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না। আল-নাসরের সঙ্গে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, রোনালদোর হতাশার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমার আল-ইত্তিহাদ ছেড়ে লিগ নেতৃস্থানীয় ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেওয়া। এ কারণে গত সোমবার আল-রিয়াদের বিপক্ষে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচের স্কোয়াডে রোনালদোর নাম ছিল না। পর্তুগালের গণমাধ্যম ‘আ বোলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লাব পরিচালনার ধরন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানান।
৩৮ বছর বয়সী ফরাসি ফরোয়ার্ড বেনজেমা নতুন ক্লাবের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেন এবং আল-ওখদুদকে ৬-০ গোলে হারাতে ভূমিকা রাখেন। আল-নাসর ও আল-হিলাল—উভয় ক্লাবই সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) নিয়ন্ত্রণাধীন। একই সংস্থা ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডেও বিনিয়োগ করেছে।
সৌদি প্রো লিগের এক মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, 'লিগের কাঠামো একটি সহজ নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি ক্লাব একই নিয়মের অধীনে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। নিয়োগ, ব্যয় ও কৌশল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ক্লাবগুলোর নিজস্ব কর্তৃপক্ষের হাতে। রোনালদো আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার জয়ের আকাঙ্ক্ষা থাকা স্বাভাবিক। তবে কোনো ব্যক্তি যত বড় তারকাই হোন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারেন না।'
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর আল-নাসরে যোগ দেন রোনালদো। বছরে প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড পারিশ্রমিক নিয়ে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হয়েছিলেন। তবে আল-নাসরের হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ জিতেছেন। ২০২৫ সালের জুনে তিনি নতুন করে দুই বছরের চুক্তি করেন। যদিও এর আগে আল-হিলালে ধারে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে আল-হিলাল অপরাজিত থেকে ২০ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। আল-নাসর এক ম্যাচ কম খেলেও তৃতীয় স্থানে, তাদের পয়েন্ট শীর্ষ দলের চেয়ে চার কম। লিগ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, 'শিরোপা দৌড় এখনো উন্মুক্ত। শীর্ষ চার দলের মধ্যে ব্যবধান কম থাকা প্রমাণ করে, প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখতে লিগ কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করছে।'