সিলেটে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তারা বলছে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা সংখ্যালঘু ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমন হুমকি দিচ্ছে।
শনিবার (৭ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগসহ আরও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দরা। এসব অভিযোগ ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও তারা অবহিত করেছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে একটি বিশেষ দল বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা কেন্দ্র দখল করে ফল তাদের পক্ষে নিতে চায় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এজন্য সশস্ত্র মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে। বিষয়টি আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
কয়েস লোদী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ওই দলটি ভোটের প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার করছে। তারা লোকজনকে বেহেশতের প্রলোভন দেখাচ্ছে। ভোটের প্রচারে বেআইনিভাবে শিশু-কিশোরদেরও ব্যবহার করছে। সিলেটের বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কয়েস লোদী জামায়াতের প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, সিলেট-১ আসনে আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। নিম্ন আয়ের লোকজনের মধ্যে তারা টাকা বিতরণ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে। এ বিষয়টিও আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই দলের কর্মীরা বেআইনিভাবে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে ভোটারদের দলীয় ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণসহ নানাভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তারা তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, যা ভোটারদের ওপর একটি প্রচ্ছন্ন চাপ বলে মনে করছে বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েস লোদী বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছি কিছু কিছু এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলেছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী প্রমুখ।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর একটি কমন (সাধারণ) অভিযোগ বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমার কাছে করেছেন, কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট করে কোন অভিযোগের তথ্য দিতে পারেননি। এরপরও সংখ্যালঘুরা যাতে নির্বাচন নিয়ে কোন উদ্বেগে না পড়েন সেজন্য সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করে তাদেরকে নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে আশ্বস্থ করা হবে।
ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতিসহ সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অন্য অভিযোগগুলো সম্পর্কে বিএনপি তাকে কিছু জানায়নি বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।