গাজায় ইসরায়েলি দখল অব্যাহত থাকা অবস্থায় হামাস বা অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন হামাসের প্রবাসী রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশাল। তাঁর ভাষায়, দখলদারিত্বের মধ্যে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলে ফিলিস্তিনিরা সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়বে।
রবিবার (৮ জানুয়ারি) দোহায় আল জাজিরা ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেশাল বলেন, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের আলোচনা মূলত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধকে দুর্বল করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, দখল চলমান থাকা অবস্থায় নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা মানে ফিলিস্তিনিদের এমন এক অবস্থায় ঠেলে দেওয়া, যেখানে তারা ইসরায়েলের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে—যে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমর্থনে বিপুল অস্ত্রে সজ্জিত।
খালেদ মেশাল বলেন, অস্ত্র বিষয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে কেবল তখনই, যখন গাজায় পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দূর হবে। তিনি জানান, কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতায় এবং এসব মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় হামাস তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’-এর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, এতে ব্যর্থ হলে সংগঠনটিকে পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে হামাস স্পষ্ট করে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অবস্থান করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়বে না।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় আনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং পূর্ব গাজার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে এখনো সেনা প্রত্যাহার করেনি।
মেশাল বলেন, সমস্যা হামাস বা প্রতিরোধ বাহিনীর নিশ্চয়তা দেওয়ার অভাব নয়; মূল সমস্যা হলো ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেগুলো মিলিশিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে গাজায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।