১৮৫ রান তাড়ায় শেষ ৬ বলে ১০ রানের সমীকরণে মুখে দাড়িয়েছিল নেপাল। স্যাম কারেনের চার বলে ৪ রান নিলে শেষ ২ বল থেকে ছক্কার প্রয়োজন দাড়ায় লোকেশ বামের। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম সেরা বোলারের ওই দুই বল থেকে কিছুই করতে পারেননি তিনি। খাদের কিনারা থেকে বেচে যায় ইংল্যান্ড। ৪ রানের জয়ে যেনো ঘাম দিয়ে জ্বর নামে দুবারের চ্যাম্পিয়নদের।
জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের ফিফটিতে ভর করে শক্ত ভিত গড়ে ইংল্যান্ড। বেথেল করেন ৫৫ রান, ব্রুকের ব্যাট থেকে আসে ৫৩। শেষদিকে উইল জ্যাকস অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ইংল্যান্ড তোলে ১৮৪ রান।
জবাবে নেপাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। কুশল ভুর্তেল শুরুতেই জোফরা আর্চারের এক ওভারে চার বলের মধ্যে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন। তবে আসল ভিত গড়ে ওঠে দিপেন্দ্র সিং আইরি ও রোহিত পৌডেলের ব্যাটে। এই দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা ৮২ রানের জুটি (৫৪ বল) নেপালকে ম্যাচের গভীরে নিয়ে যায়। আইরি খেলেন ৪৪ রান, আর অধিনায়ক রোহিত পৌডেল করেন ৩৯ রান।
শেষ ছয় ওভারে নেপালের দরকার ছিল ৬২ রান—কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে আইরি ও পৌডেল দুজনই ফিরে গেলে মনে হচ্ছিল, এখানেই বুঝি শেষ নেপালের লড়াই।
কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে মাঠে ঝড় তোলেন লোকেশ বাম। স্যাম কারানের এক ওভারে টানা দুটি ভাগ্য সহায় বাউন্ডারি, এরপর জোফরা আর্চারের ওপর দুইটি বিশাল ছক্কা—মুহূর্তেই ম্যাচ ফের নেপালের হাতে চলে আসে। ১৯তম ওভারে লুক উডকে রীতিমতো বিপাকে ফেলেন বাম। ওই ওভারে আসে ১৪ রান। বামের ব্যাট থেকে আরও দুটি বাউন্ডারি বেরিয়ে গেলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায়— শেষ ওভারে দরকার ১০ রান।
চাপের মুখে বল হাতে ফেরেন স্যাম কারান। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার শেষ ওভারে ইয়র্কার কৌশলে আটকে রাখেন বামকে। শেষ বলে দরকার ছিল ছক্কা।
বাম চেষ্টা করেছিলেন ডিপ এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে বল পাঠাতে। কিন্তু বল উঠে যায় ঠিকমতো নয়—টো–এন্ড হয়ে সোজা চলে যায় ডিপ এক্সট্রা কাভারের ফিল্ডারের হাতে। অপরাজিত ৩৯ রানে থামতে হয় বামকে, আর ইংল্যান্ড শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় উদ্যাপন করে।
গত আসরেও নেপাল একইভাবে শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়েছিল। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেন্ট ভিনসেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ১ রানে হেরে গিয়েছিল তারা।