বিগত ১৭ বছরে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে পশু-পাখি ও গরু-ছাগলেরও মূল্য ছিল, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কোনও মূল্য ছিল না—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, গরু-ছাগল নির্বিঘ্নে বাড়িতে ঘুমাতে পারত, অথচ আমরা মানুষ হয়েও এক মিনিটের জন্য বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি।
আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন মাজেদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। গণগ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। পশু-পাখিরও নিরাপত্তা ছিল, কিন্তু আমাদের কোনো নিরাপত্তা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, গরু-ছাগলরা বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছে, কিন্তু আমরা বনে-জঙ্গলে, ভুট্টাক্ষেতে ও নির্জন স্থানে রাত কাটিয়েছি। দিনের পর দিন আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। কখন পুলিশ আসবে, কখন গ্রেপ্তার করবে—এই ভয়ে নির্ঘুম রাত কেটেছে।
শেখ হাসিনার আমলের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, সে সময়ে দেশে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে একটি গোষ্ঠী আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। ব্যাংক লুট, টাকা পাচার ও ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে জনগণকে দাসে পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোট ছিল না, নির্বাচন ছিল না। দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে। মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। আজ সেই ভয়ভীতি কাটিয়ে জনগণ আবার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।
মাজেদুর রহমান আরও বলেন, এই নির্বাচন জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি আল্লাহভীরু, সৎ ও জুলুমবিরোধী নেতৃত্বকে ভোট দেন, তাহলে এই দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের পর দেশে একটি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ সফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম বাবু, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, এবি পার্টির তাজুল ইসলাম, এনসিপির লুৎফর বকসি, এলডিপির শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।