আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি এক স্বতন্ত্র প্রার্থীও দাপটের সঙ্গে মাঠে থাকায় ভোটযুদ্ধের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আঞ্চলিক প্রভাব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, দলীয় ঘাঁটি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সব কিছুই এই আসনের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ আসনে মোট ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা গেছে, কৃষকদলের সহ সভাপতি, সাবেক সাংসদ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের রয়েছে দলীয় ভোট ব্যাংক। তবে স্থানীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা এখনও একজোট হতে পারেননি। ইতোমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার ছয় বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লার রয়েছে তিন উপজেলাতেই নিজস্ব দলীয় ভোট। এছাড়া সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।
এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ফুটবল মার্কার প্রার্থী আবুল বাসার খান ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার এই প্রচারণাও ভোটারদের নজরও কাড়ছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে বিএনপি ও জামায়াত এই দুই দলেরই অবস্থান দুর্বল। ফুটবল এ উপজেলায় বাজিমাত করতে পারে বলে অনেকের ধারণা। এছাড়া তিন উপজেলারই বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী গ্রুপটির একাংশ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ফুটবল প্রতীকের আবুল বাসার খানের পক্ষে কাজ করছেন। এ কারণে বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীও নির্বাচনের ময়দানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বলে অনেকের অভিমত।
এ আসনে মোট ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। আর এক জুলাই যোদ্ধা আদালতে আপিল করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলনের (জাহাজ প্রতীক) প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। ফলে এখন ৮ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
তারা হলেন বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ড.মো.ইলিয়াস মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস (রকেট), জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান (লাঙ্গল)। এছাড়া চার স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন মো. হাসিবুর রহমান (হরিণ), মো. আবুল বাশার খান (ফুটবল), শেখ আব্দুর রহমান জিকো (উট) ও মো. গোলাম কবির মিয়া (মোটরসাইকেল)।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, এ আসনের ভোটার ৫ লাখ ১০ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৩০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের একজন। নতুন ভোটার বেড়েছে ৫ হাজার ৯১৯ জন। ১৯৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বোয়ালমারী উপজেলায় ৭৮, মধুখালীতে ৭৯ ও আলফাডাঙ্গায় ৪০ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ফরিদপুর-১ আসন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে ১০ বার আওয়ামী লীগ, একবার করে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।