প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেন্সি
ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক
সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে একজন পেশাজীবীর অনবরত তার যোগ্যতা বাড়িয়ে চলা অতন্ত জরুরি। বর্তমান সময় অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, চাহিদার পরিবর্তন হচ্ছ, পেশাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে এই প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আপনাদের জন্য রইল ১০ পরামর্শ।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে আমাদের পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং আরও উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও আছে জ্ঞানার্জনের এক বিশাল জগৎ। পড়–ন আপনার পেশা সংক্রান্ত দেশি-বিদেশি বই, পত্র-পত্রিকা, জার্নাল, ম্যাগাজিন এবং গবেষণাপত্র। অনেক সময় পাঠ্যবইয়ে যে শিক্ষা অর্জিত হয় তা হয়তো বাস্তব প্রেক্ষাপটে হুবহু কাজে নাও লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাঠ্যবইয়ের বাইরের এই উৎসগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুততর উপায়ে পেশাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। তিন ধরনের প্রশিক্ষণ হয়। প্রথমত: অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দ্বিতীয়ত: বাইরের কোনো প্রশিক্ষককে অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ।
তৃতীয়ত: আপনি দেশে-বিদেশে অন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসতে পারেন।
এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। হাতের নাগালেই সারা বিশ্ব। ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। কী নেই সেখানে? আপনার পেশা সংক্রান্ত অনেক কিছুই খুঁজে পাবেন সেখানে। শুধু প্রয়োজন আগ্রহ আর পরিশ্রম করার মানসিকতা।
একটু খেয়াল করেলেই আপনার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে না কাউকে অবশ্যই খুঁজে পাবেন যারা আপনার পেশা বা পেশা সংক্রান্ত কোনো না কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত আছেন। তাদের সঙ্গে আপনার সমস্যা, বাধা, জটিলতাগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করুন।
সহকর্মীরাও হতে পারেন আপনার দক্ষতা বাড়ানোর আরেক উপায়। সহকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিটি হচ্ছেন আপনার বস, যিনি আপনার অবস্থান, পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ গন্তব্য সম্বন্ধে সবচেয়ে ভালো জানেন। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে তার সাহায্য নিন। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো আপনি তাকে আপনার প্রয়োজন বা চাহিদা অনুযায়ী অনুকূল অবস্থায় নাও পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার আরও অনেক সহকর্মী আছেন যারা চাইলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপনাকে সাহায্য করার যোগ্যতা রাখেন।
আপনার চারপাশে নজর রাখুন। আপনার পেশা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কারা আছেন, খুঁজে বের করুন। টিভি, পত্রিকা, ইন্টারনেট ইত্যাদির দিকে খেয়াল রাখলে আপনি কোনো না কোনো সময় এই বিশেষজ্ঞদের খুঁজে পাবেন। তাদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করুন। সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে আলাপ করুন, আপনার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ নিন।
চর্চা ছাড়া সব কিছুতেই সাফল্য অর্জন করা কঠিন। আপনার যে কোনো নতুন শিক্ষাকে চর্চা করুন যাতে তা আপনার দক্ষতায় পরিণত হয়। নিয়মিত চর্চাই আপনাকে উত্তরোত্তর আরও দক্ষ করে তুলবে।
যা শিখছেন, পড়ছেন, দেখছেন তা মনে রাখা চাই। নিয়মিত চর্চা স্মৃতিশক্তিও বাড়ায়। অনভ্যাসে আমরা কতকিছুই ভুলে যাই। ফলে যথাসময়ে যথাস্থানে তা ব্যবহার করা যায় না। ফলে দক্ষতা বাড়া তো দূরের কথা অনেক পরিশ্রম করে অর্জিত সেই জ্ঞান অব্যবহৃতই থেকে যায়। একটু লক্ষ করলেই দেখবেন, আমাদের জীবনের বহু দক্ষতা ও জ্ঞান ব্যবহার করা হয় না বলে আজও সময়ের অপচয়ের খাতায়ই লেখা রয়ে গেছে। আমাদের দক্ষতা বাড়াতে ও নিজেকে আরও যোগ্যতর করে তুলতে যেদিন সেইসব অর্জিত জ্ঞানগুলোকে কাজে লাগাতে পারব সেদিন থেকেই সময়গুলোও সার্থক হয়ে উঠবে।
যে কোনো পেশাই হোক না কেন, মানবিক গুণাবলি অর্জন ছাড়া ধারাবাহিক উন্নতি সম্ভব নয়। যেমন সততা, নিষ্ঠা, অধ্যাবসায়, পরিশ্রম, সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি। এই গুণগুলোর অবশ্যই প্রয়োজন আছে। যদি কেউ এই গুণগুলো ছাড়াও উন্নতি করেই থাকেন তিনি ব্যতিক্রম, অনুকরণীয় নন।