পদত্যাগের ঘোষণা ঢাবি উপাচার্যের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের একদিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।’

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটি ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। এখন ক্রান্তিকাল শেষ হয়েছে। তাই আমি আমার আসল কাজ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপনার দায়িত্বে ফিরতে চাই।’

তিনি জানান, কোনো চাপে পড়ে তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি। আরও কিছুদিন তিনি দায়িত্বে থাকবেন এবং নির্বাচিত সরকার আসার পর তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও জানান নিয়াজ আহমদ খান।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় তিনি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ‘বিশেষ’ অ্যাখ্যা দেওয়া এই সম্মেলনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়।

এরপরই গুঞ্জন উঠে হয়ত পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। পরে সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি উপাচার্য নিয়াজ আহমদ বলেন, নির্বাচিত সরকার চাইলে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। এরপর ২৭ আগস্ট নিয়োগ দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নিয়াজ আহমদ খানকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিকেল ১১(২) অনুযায়ী প্রফেসর নিয়াজ আহমেদ খান, পিএইচডি, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’