জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে মৃত্যু: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বসতঘরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাজিরা থানার পুলিশ উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নুরুল ইসলাম প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন এমন অভিযোগ ছিল নিহতদের পরিবারের সদস্যদের। তাদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ প্রথমদিকে তাকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। গত শুক্রবার শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদকে প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ।

জানা গেছে, নুরুল ইসলাম মোট ১১টি মামলার আসামি। এর মধ্যে সাতটি বিস্ফোরক আইনে এবং পাঁচটি বিভিন্ন অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) তানভীর হোসেন জানান, ‘বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলামকে তার বাড়ির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

জাজিরা থানা সূত্র জানায়, গত ৮ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরের ভেতরে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিন ঘটনাস্থলের কাছের একটি ফসলি জমি থেকে সোহান ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন এবং ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নয়ন মোল্যা।

এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার কয়েকজন আসামি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় অবস্থান করছেন এবং লোকজন সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। বিস্ফোরণের ঘটনার পর যৌথ বাহিনী বিলাসপুর এলাকা থেকে একাধিক দফায় অন্তত ৮০টি ককটেল উদ্ধার করেছে।

এ ছাড়া স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে। কুদ্দুস ব্যাপারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মামলার প্রধান আসামি তার ভাই নুরুল ইসলাম ব্যাপারী।