নেত্রকোনার মোট দুইটি আসনের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সদর উপজেলায় চারটি এবং নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে একটি কেন্দ্র আছে। এসব ভোটকেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছিল।
তবে প্রশাসন বলছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র। এইসব কেন্দ্রগুলোতেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্বধলা উপজেলার হিরনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনে তিনটি বিদ্যালয়ের কক্ষে থাকা ছয়টি বেঞ্চ ও দেয়ালের আংশিক অংশ পুড়ে গেছে। আর দুটি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা পরিত্যক্ত দুটি বেঞ্চ পুড়ে গেল বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে নেত্রকোনার সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের তিনটি ভোটকেন্দ্র ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৫ টি স্থানে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের পর এলাকাবাসী গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায়। তবে যে কেন্দ্রগুলোতে দেয়া হয়েছে সেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণে কোন বাঁধা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তারা।
এদিকে জেলা প্রশাসক আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, মোট তিনটা সেন্টার ও দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একটি সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও তারা জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, আমরা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছি। কিছু বেঞ্চ আংশিক পুড়লেও ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়াও আমাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
আর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, সদর উপজেলার চারটি বিদ্যালয়ের মধ্যে দুটি বিদ্যালয়ের জানালা খুলে ভেতরে আগুন দেওয়ায় পাঁচটি বেঞ্চ পুড়ে গেছে। অন্য দুটি বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত দুটি বেঞ্চ পুড়েছে। কেন্দ্রগুলোয় গ্রাম পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আর এই বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে প্রশাসন সবগুলো স্থান পরিবেশন করেছে। তবে কেন্দ্র পরিবর্তনের মত কোন ঘটনাই ঘটেনি। সবগুলো বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সবগুলো কেন্দ্রেই ভোটগুলো অনুষ্ঠিত হবে।