বিশ্বরেকর্ড গড়ে আমিরাতকে হারালো কিউই দুই ওপেনার

দুদিন আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৮৩ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিনা উইকেটে সর্বোচ্চ ১৭৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়লো নিউজিল্যান্ড। 

চেন্নাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান করেছিল। কিউই দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট (৪২ বলে ৮৯*) ও ফিন অ্যালেন (৫০ বলে ৮৪*) হাতে ২৮ বল রেখেই সেই রান টপকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়। ১৭৫ রানের জুটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড়। তাঁরা ভেঙেছেন ২০২২ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের গড়া ১৭০ রানের রেকর্ড। 

টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আরব আমিরাত ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় মূলত অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিমের সৌজন্যে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে বরাবরই ধারাবাহিক পারফর্ম করা ওয়াসিমের জন্য এই ইনিংসটি ছিল নিজেকে প্রমাণের। ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বেশি রান (৩১৫৫) এসেছে ওয়াসিমের ব্যাট থেকে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও মেরেছেন তিনিই—১৮৭টি।

তবে আমিরাতের এই অধিনায়ক বেশির ভাগ ম্যাচ খেলেন অপেক্ষাকৃত ছোট দলের বিপক্ষে। এর আগে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন ৩টি ম্যাচ, যেখানে একটি ফিফটি ছিল—সেটিও নামিবিয়ার বিপক্ষে। তাই তাঁর অর্জন যে ফ্লুক নয়, তা প্রমাণ করতে ৪৫ বলে খেলা অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসই যথেষ্ট। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন ৩ নম্বরে নামা আলিশান শরাফু। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েছেন ৭৭ বলে ১০৭ রানের জুটি গড়েন, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পূর্ণ সদস্যদেশের বিপক্ষে সহযোগী কোনো দেশের যেকোনো জুটির মধ্যে সর্বোচ্চ। শরাফু খেলেছেন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

রান তাড়ায় অ্যালেন ও সেইফার্ট পাওয়ারপ্লেতেই প্রায় অর্ধেক রান তুলে ফেলেন। প্রথম ৬ ওভারে দুজন মিলে করেন ৭৮। প্রতি ২.৭৭ বলে এসেছে একটি করে বাউন্ডারি। মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করেন সেইফার্ট, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটি। আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ফিফটি করেছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। 

অ্যালেন ফিফটি করতে খেলেছেন সেইফার্টের চেয়ে মাত্র ৪টি বল বেশি—২৭। দুজন ১০০ রানের জুটি গড়েন মাত্র ৫১ বলে, আর ১৫০ রান উঠে যায় ৭৯ বলেই। 

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কোন জুটিতে রান

জুটি রান উইকেট দল টুর্নামেন্ট
সেইফার্ট ও অ্যালেন ১৭৫* ১ম নিউজিল্যান্ড ২০২৬
বাটলার ও হেলস ১৭০* ১ম ইংল্যান্ড ২০২২
রোসো ও ডি কক ১৬৮ ২য় দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২২
সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে ১৬৬ ২য় শ্রীলঙ্কা ২০১০
গুরবাজ ও ইব্রাহিম ১৫৪ ১ম আফগানিস্তান ২০২৪

 

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আরব আমিরাত: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (ওয়াসিম ৬৬*, শরাফু ৫৫; হেনরি ২/৩৭, স্যান্টনার ১/২৩)। নিউজিল্যান্ড: ১৫.২ ওভারে ১৭৫/০ (সেইফার্ট ৮৯*, অ্যালেন ৮৪*)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: টিম সেইফার্ট।