অভিষেকেই শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে রাজশাহী স্টারস। তারকায় ঠাসা দলটি গতকাল মঙ্গলবার নারী ফুটবল লিগের নবম ম্যাচে সদ্যপুষ্করিণী সংসদকে হারিয়েছে ৮-০ ব্যবধানে। ৯ ম্যাচ থেকে পূর্ণ ২৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকারদের দল। শুক্রবার লিগের শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ আর্মি ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে হার এড়াতে পারলেই শিরোপা জিতবে রাজশাহী।
শেষ ম্যাচে আর্মিও চাইবে মরণ কামড় দিতে। গতকাল তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাসরিন অ্যাকাডেমিকে হারিয়েছে ১৮-০ গোলে। ৯ ম্যাচ শেষে আর্মির সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। রাজশাহীকে শেষ রাউন্ডে হারালে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াবে ২৭। এ ছাড়া ২৭ পয়েন্টে শেষ করার সুযোগ আছে সোমবার অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বাংলাদেশ পুলিশকে ৩-২ গোলে হারানো ফরাশগঞ্জেরও। যদি শেষ পর্যন্ত তিন দলের পয়েন্ট সমান হয় তবে তাদের খেলতে হবে প্লে-অফ। দুই দলের সমান পয়েন্টেও শিরোপা ভাগ্য গড়াবে প্লে-অফে। এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ জেতা রাজশাহী নিশ্চয় এমন জটিল সমীকরণে পড়তে চাইবে না। তারা চাইবে আর্মিকে হারিয়েই শিরোপা উৎসব করতে।
বড় বিরতি শেষে মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে গড়িয়েছে নারী ফুটবল লিগ। আট রাউন্ডের খেলা শেষ, লিগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে। নেপালের পোখারায় সাফের আসরে রানার্স-আপ হয়ে ফিরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির আগে এখন ফুটবলারদের সব মনোযোগ লিগে। রাজশাহী দলে খেলছেন বেশ ক’জন জাতীয় তারকা। এর মধ্যে সাফের সদ্যসমাপ্ত আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা আলপি আক্তার দেশে ফিরেই করেছেন হ্যাটট্রিক। সদ্যপুষ্করিণীর বিপক্ষে অবশ্য জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হন পোস্টার গার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। এছাড়া সুরভী আখন্দ প্রীতি ও মুনকি আক্তার একটি করে গোল করেন। অপর গোলটি ছিল আত্মঘাতী। আগের আট ম্যাচে আলপি করেছিলেন ২৫ গোল। কালকের হ্যাটট্রিকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮টি। তবে তাকে ছাপিয়ে গেছেন আর্মির সুলতানা। নাসরিনের বিপক্ষে ১৮-০ গোলের ৯টি করেছেন সুলতানা। ২৯ গোলে তিনি এখন সবার ওপরে। এছাড়া হ্যাটট্রিক করেন বৃষ্টি। উন্নতি ও তনিমার পা থেকে আসে জোড়া গোল। হালিমা করেন অপর গোলটি।
দিনের অপর ম্যাচে শিরোপা লড়াইয়ে থাকা ফরাশগঞ্জকে বড় পরীক্ষাই নিয়েছিল পুলিশ। ২৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সফল লক্ষ্যভেদে পুলিশকে এগিয়ে নেন আইরিন খাতুন। ৩৭ মিনিটে ফরাশগঞ্জ কিপার ইয়ারজান বেগমের শিশুতোষ ভুলে ফের এগিয়ে যায় পুলিশ। গোলকিক থেকে তিনি বল তুলে দেন সাগরিকার পায়ে। বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড মার্কারকে কাটিয়ে গোল করেন। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ফরাশগঞ্জ অবশ্য আশা ছাড়েনি। ৫২ মিনিটে ব্যবধান কমান অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। ৬৫ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। মারিয়ার মাপা থ্রু ধরে জোরালো শটে গোল করেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। ম্যাচটা যখন ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলছে তখনই পুলিশের কিপার শামসুন্নাহার জুনিয়রকে বক্সে ফাউল করে সর্বনাশ ডেকে আনেন। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়র গোল করে ফরাশগঞ্জকে পাইয়ে দেন গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।