দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারীর পিএলসি (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ণ রিফাইনারী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকার ও ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে বিপিসি। ৩০ নভেম্বর ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ীত হবে।
এবিষয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পটি অনুমোদনের কাজ চলছিল। গত ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদন পেলো।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে আরো বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করা যাবে। বর্তমানে আমরা একটি ইউনিটের মাধ্যমে ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করতে পারি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।
বর্তমানে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। তন্মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত (ক্রুড অয়েল) তেল ইস্টার্ণ রিফাইনারীর মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। ইস্টার্ণ রিফাইনারি দেশের একমাত্র জালানি তেল পরিশোধনাগার, যা চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (ক্রূড অয়েল) তেলের মূল্য কম হলেও ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এর বেশি পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি না থাকায় অবশিষ্ট ৫.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি মূল্যে আমদানি করতে হয়। মূলত বাংলাদেশে রিফাইনারি বা পরিশোধন কারখানার সক্ষমতা কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রূড অয়েলের দাম কমে গেলেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ক্রূড অয়েল ক্রয় করে মজুদ করা সম্ভব হয় না। ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব সরাসরি স্থানীয় বাজারে অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্যই ২০০৮ সালে ৩০ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। অবশেষে এই প্রকল্পটি যথাযথ সকল অনুমোদন পেলো।