পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে একসঙ্গে বিজিএমইএ-এইচএসবিসি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ এএম

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানামুখী চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার সম্প্রসারণে একটি দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান (এইচএসবিসি)।

রবিবার (১২ জুলাই) বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়,  এর অংশ হিসেবে  কৌশলগত সমন্বয়ের আওতায় এশিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক হাব হংকংয়ে একটি বৃহৎ পরিসরে অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করা হবে। এই রোডশো আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও বিশ্বমানের অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে প্রথাগত বাজারের বাইরে এশিয়া অঞ্চলে নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য ও সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে আয়োজিত হতে যাওয়া বৃহৎ বস্ত্র প্রদর্শনী বাটেক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করা হবে।

এই দূরদর্শী বৈশ্বিক রোডশো ও বাজার সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে কৌশলগত রূপ দিতে রবিবার (১২ জুলাই) উত্তরাস্থ বিজিএমইএ দপ্তরে বিজিএমইএ এবং এইচএসবিসি এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজিএমইএর পক্ষে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও এইচএসবিসির পক্ষে এইচএসবিসি বাংলাদেশ এর সিইও মো.মাহবুব উর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থাকার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে এইচএসবিসির একটি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে এবং বৈশ্বিক ক্রেতারা এইচএসবিসির মূল্যায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা এই অনন্য কানেকশনকে কাজে লাগিয়ে হংকংয়ের অ্যাপারেল রোডশোতে সেইসব আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাবো, যারা বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সেভাবে পণ্য সোর্সিং করছে না। এর মাধ্যমে আমাদের রপ্তানি পরিধি আরও প্রসারিত হবে।

পোশাক খাতের অমিত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো.মাহবুব উর রহমান  বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং এই খাত থেকে দেশের আরও অনেক কিছু পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই শিল্পের অগ্রযাত্রার সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের একটি ধারাবাহিক ও গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এইচএসবিসি প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আরও বড় পরিসরে বিকশিত হোক এবং এই প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে এইচএসবিসি সবসময় বিজিএমইএ র পাশে থাকতে চায়। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ডেস্টিনেশন বা সোর্সিংয়ের উৎস পরিবর্তনের প্রবণতা তুলে ধরে এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও গভীর গবেষণা  পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগগুলো হলো

নতুন বাজার অনুসন্ধান ও প্রমোশন

হংকং রোডশোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীজনদের সাথে অর্থপূর্ণ সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে গতি আনা।

ভ্যালু চেইন ও সোর্সিং সুবিধা

বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং সোর্সিংয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে কৌশলগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।

টেকসই প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং টেকসই রূপান্তরকে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং মো. আশফাকুর রহমান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যাস ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত