ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন। সময় যত গড়াচ্ছে, রাজনীতির অঙ্ক ততই জটিল হচ্ছে। তবে এবারের সমীকরণ অন্য রকম। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর নামের শেষাংশ একই-‘রহমান’। প্রশ্ন এখন একটাই: সরকারপ্রধান হচ্ছেন কোন রহমান?
‘রহমান’ অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি
বাংলাদেশের পাঁচ দশকের রাজনীতির ইতিহাস বলছে, ক্ষমতার কেন্দ্রে যাঁরা থেকেছেন, তাঁদের অধিকাংশের নামের শেষে আছে ‘রহমান’। শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান-প্রত্যেকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছেন ভিন্ন ভিন্ন পথে। কেউ সংসদীয়, কেউ সামরিক, কেউ রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে। কিন্তু মিলটি যেন অলিখিত এক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
আজ সেই ধারাবাহিকতার প্রতিনিধি হয়ে ময়দানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী-তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান।
সিলেটের ‘জামাই’ বনাম ‘ভাই’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটের জামাই। স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুরে। সেখানকার ‘রাহাত মঞ্জিল’-এ গিয়েই এ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেন তিনি। সিলেটের জনসভা থেকে তীব্র গতিতে ছুটেছেন ভোটের ময়দানে।
অন্যদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সিলেটেরই সন্তান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। দুই কন্যা সন্তানের পিতা। স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম অষ্টম সংসদের সদস্য ছিলেন।
দুই রহমান, দুই পথ
দুজনেই কন্যা সন্তানের পিতা। দুজনেই সিলেটের মাটিতে শিকড় গেড়ে আছেন। একজন ‘সিলেটি ভাই’, অপরজন ‘সিলেটের জামাই’। ইতিহাসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই প্রার্থী। পেছনে আছে শেখ মুজিবুর রহমান থেকে জিয়াউর রহমান-দীর্ঘ এক ‘রহমান’ অধ্যায়।
নির্বাচনের আগের রাতে রাজনীতির অঙ্ক তাই খুব সোজা নয় বরং অদ্ভুত এক সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে। নাম ‘রহমান’, শিকড় সিলেট, ইতিহাস ভারী, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!
শেষ হাসি কার?
সিলেটের মাজারমুখী মানুষ। সিলেটের আঞ্চলিক আবেগ, আত্মীয়তার বন্ধন-এসব কি ভোটের হিসাব বদলে দেবে? নাকি রাজনীতির ম্যাটিকুলাস অঙ্কে বরাবরের মতো হার মানবে স্থানীয় পরিচয়?
জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরই স্পষ্ট হবে-ক্ষমতার চাবি কার হাতে যাচ্ছে। আগামীকাল রাত নাগাদ জেন-জির টিকটক আর রিল ভিডিওতে বেজে উঠবে রামকানাই দাশের সুর-‘(ক্ষমতায়) আইলো রে নয়া দামান!’
ভোটের দৌড়ে আপাতত পিছিয়ে থাকলেও শেষ হাসি কার-সেটা জানাবে শুধু ব্যালট বাক্স।