নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে ৩৫ জন প্রার্থীর। যার মধ্যে ৪ জন রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য। এদের মধ্যে এক সাবেক সংসদ সদস্য আবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে দুটিতেই জামানত হারিয়েছেন।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। ইসির জারি করা পরিপত্রে দেখা যায়, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ১২৯টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১টি। ৮ ভাগের এক ভাগ হিসেবে একজন প্রার্থীকে জামানত রক্ষায় কমপক্ষে ৩২ হাজারের অধিক ভোট পেতে হবে। সে হিসেবে অত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মো: ইমদাদুল্লাহ (৭,১৮৬ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীকে (২১৯ ভোট), সিপিবির কাস্তে প্রতীকের মনিরুজ্জামান চন্দন (২৬১ ভোট), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: রেহান আফজাল (২০৭ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল হোসেন জাহাজ প্রতীকে (৪৬৩ ভোট)।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ১১৮টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোট। ৮ ভাগের এক ভাগ হিসেবে একজন প্রার্থীকে জামানত রক্ষায় কমপক্ষে ২৯ হাজারের অধিক ভোট পেতে হবে। অত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারাবেন। তারা হলেন কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) আতাউর রহমান আঙ্গুর, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ (৫,২৬৫ ভোট), সিপিবির কাস্তে প্রতীকের হাফিজুল ইসলাম (৩৫০ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের কামরুল মিয়া (১৪২ ভোট) ও রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের আবু হানিফ হৃদয় পেয়েছেন (২২৭ ভোট)।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনে ২১০টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোট। ৮ ভাগের এক ভাগ হিসেবে একজন প্রার্থীকে জামানত রক্ষায় কমপক্ষে ৪২ হাজারের অধিক ভোট পেতে হবে। সে হিসেবে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯জনেই জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের গোলাম মসীহ (১৪ হাজার ২২৩ ভোট), ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (২০ হাজার ৩৭৯ ভোট), ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) রেজাউল করিম (৪ হাজার ৫৯৬ ভোট), গণসংহতির মাথা প্রতীকের অঞ্জন দাস (৬৩৮ ভোট), খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী (৭৬৯ ভোট), জনতার দলের কলম প্রতীকের আবদুল করিম মুন্সী (২৮৫ ভোট), খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের মো. শাহজাহান (১,১৯৩ ভোট), এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের আরিফুল ইসলাম (১৩৭ ভোট) ও গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী (৩১৪ ভোট) পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক) আসনে ১৭৭টি কেন্দ্র এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮টি। এই এলাকাই অত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০জনই জামানত হারাবেন। তারা হলেন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (৪৭৭৯ ভোট), রিপাবলিকান পার্টির হাতী প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী (১১ হাজার ৩২৮ ভোট), হাতপাখা প্রতীকের মুফতি ইসমাঈল সিরাজী (১৬ হাজার ৭৪৬ ভোট), বাসদের মই প্রতীকের সেলিম মাহমুদ (২৮২ ভোট), জাসদের মোটরগাড়ি প্রতীকের মো. সুলাইমান দেওয়ান (৩৭০ ভোট), সিপিবির কাস্তে প্রতীকের ইকবাল হোসেন (৪৭৯ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের আরিফ ভূঁইয়া (১০৬ ভোট) ও বিএসপির একতারা প্রতীকের সেলিম আহমেদ (৬৪৩ ভোট), জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা (৮১৭ ভোট) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের আনোয়ার হোসেন (৮০০ ভোট)।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০টি। অত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭জনই জামানত হারাবেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা) (৭,৭০৮ ভোট), গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন (মাথাল) (১, ০২৩ ভোট), ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (চেয়ার) (৪,৬৫০ ভোট), বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব (মই) (৩৭০ ভোট), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা (ছড়ি) (২৪২ ভোট), সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ (কাস্তে) (১ হাজার ৫৭৫ ভোট) ও গণঅধিকার পরিষদের নাহিদ হোসেন (ট্রাক) (৬৪৩ ভোট)।