জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় তাদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৫৯ প্রার্থী। ছোট দলগুলোর কোনো প্রার্থীই জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা নির্বাচন অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তা না হলে জামানত বাবদ জমা দেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়।
ফলাফল অনুযায়ী, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে জামানত হারালেন সাতজন। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশির আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আবুল কালাম, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মো. সফিউল বাসার ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান। সবচেয়ে কম ১৪৪ ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারান তিন প্রার্থী। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আশরাফুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম। সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আমির হোসেন ৫৭০ ভোট।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৯ প্রার্থী। এর মধ্যে সাতজনের জামানত হারান। এরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার ও এনডিএমের রিয়াজ মো. শরীফ এবং সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির (বিআরপি) মো. এমদাদুল হক ১১১ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): এ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম। সবচেয়ে কম ২৪৮ ভোট পেয়েছেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে আটজন জামানত হারিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবুল কালাম ইদ্রিস, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তানজিল আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আবুল বাসার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) শিরিন আক্তার। এছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল ক্বাফী পেয়েছেন ৩৪২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. এমরানুল হক পেয়েছেন ৭০৫ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন জেএসডির ওবায়দুল করিম মোহন, বাসদের কামরুন্নাহার সাথী,গণঅধিকার পরিষদের মোবারক হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হারুনুর রশীদ, বিএমএলের মো. ইয়াছিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী। সবচেয়ে কম ১৫৩ ভোট পেয়েছেন মুক্তিজোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজী।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. এহতেশামুল হক এবং সবচেয়ে কম ২৬১ ভোট পেয়েছেন মুক্তিজোটের সজল কুমার কর।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল কাদের, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. গোলাম মোরশেদ, বাসদের মো. আলী আশ্রাফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. গোলাম ছাদেক, বিআরপির মফিজ উদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও জাতীয় পার্টির এইচ এম এম ইরফান পেয়েছেন ৭২৭ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ছয়জনের। ওই প্রার্থীরা হলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু বকর ছিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কাশেম, মুক্তিজোটের মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদ ও জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ১ হাজার ২১৬ ভোট।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন মুক্তিজোটের কাজী নুরে আলম ছিদ্দিকি, আমজনতার দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামসুদ্দোহা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের হাছান আহমেদ ও সবচেয়ে কম ২৯৩ ভোট পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের আ ফ ম আবদুর রহিম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন। সবচেয়ে কম ৭০৪ ভোট পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মাইন উদ্দিন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। যারা নির্ধারিত ভোট পাননি, তাদের জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।