আইরিশদের রানের তোড়ে বিশ্বকাপ থেকে ভেসে গেলো ওমান

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখনও চললেও ব্যাটসম্যানদের ধামাকা শুরু হয়ে গেছে। কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে ওমানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড ৫ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছে, যা এই আসরে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং এই সংস্করণের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওমানকে পরে ১৩৯ রানে গুটিয়ে ৯৬ রানের জয় তুলে নিয়েছে আইরিশরা। টুর্নামেন্টে এটি তাদের প্রথম জয়। অন্যদিকে তিন ম্যাচেও জয় না পাওয়ায় ওমান ছিটকে গেছে টুর্নামেন্ট থেকে। 

আইরিশদের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ৫ ওভারে তিন উইকেট পড়েছিল মাত্র ৪৫ রানে। চতুর্থ উইকেট পড়েছিল ৭.৩ ওভারে ৬৪ রানে। তখন টপ অর্ডারের খেলোয়াড় টিম টেক্টর (৫), রস অ্যাডায়ার (১৪), হ্যারি টেক্টর (১২) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১৪) ফিরে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ম্যাচের রূপ বদলে দেন অবিশ্বাস্য দুটি জুটি। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক লোরকান টাকার ও গ্যারেথ ডেলানি ৫৬ বলে ১০১ রান করে দলকে শক্ত ভিত্তি দেন। ষষ্ঠ উইকেটে জর্জ ডকরেল টাকারের সঙ্গে ১৯ বলে ৭০ রান যোগ করে স্কোরকে বড়ো করেন। টাকার ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংসের মধ্যে ছিল ৪ ছক্কা ও ১০ চারের মার। ডেলানি ৩০ বলে ৫৬ রান করে এবং ডকরেল ৯ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন। শেষ ৫ ওভারে আইরিশরা তুলেছে ৯৩ রান, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডেথ ওভারে’ তৃতীয় সর্বোচ্চ। টাকার ও ডকরেলের ৭০ রানের জুটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে—ওভারপ্রতি গড়ে ২২.১০ রান।
বড় রান তুলতে এবারের আসরে ব্যাটসম্যানরা এতই মরিয়া যে এরই মধ্যে একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচবার দলীয় ২০০ রান এর আগে শুধু ২০০৭ বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছিল।

ওমানের শুরুটা মোটামুটি ভালো ছিল। ১০ ওভারে তারা ২ উইকেটে ৮৫ রান করেছিল। কিন্তু পরের ৮ ওভারে মাত্র ৫৪ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে তারা অলআউট হয়। ওপেনার আমির কলিম ২৯ বলে ৫০ রান করেন, আর হাম্মাদ মির্জা ৩৭ বলে ৪৬ রান করেন। কলিমের ফিফটি এসেছে ৪৪ বছর ৮৬ দিনের বয়সে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টে বয়সে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৩৫/৫ (টাকার ৯৪*, ডেলানি ৫৬, ডকরেল ৩৫*; শাকিল ৩/৩৩, ফয়সাল ১/৩২, কলিম ১/২৯)
ওমান: ১৮ ওভারে ১৩৯ (কলিম ৫০, হাম্মাদ ৪৬, সুফিয়ান ১০; লিটল ৩/১৬, হাফফ্রেস ২/২৭, ম্যাকার্থি ২/৩২)
ফলাফল: আয়ারল্যান্ড ৯৬ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: লোরকান টাকার