অভিবাসন ইস্যুতে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানালেন পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটি–র এই কোচের মতে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষকে গ্রহণ করলে সমাজ আরও ভালো ও সহনশীল হতে পারে।
সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–এর সহমালিক জিম র্যাটক্লিফ অভিবাসন নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন এবং পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এই প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিকদের গার্দিওলা বলেন, “স্যার জিমের প্রতি আমার অনেক সম্মান আছে। আমি তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। পরে তিনি নিজেই বক্তব্য দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।”
তবে অভিবাসীদের ঘিরে বিশ্বজুড়েই বড় সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, “আপনি ঠিক কী বলেছেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই একটি বড় সমস্যা আছে—আমরা অন্য দেশ থেকে আসা মানুষ বা অভিবাসীদেরই নিজেদের সমস্যার জন্য দায়ী করি। এটা খুব বড়, খুব বড় সমস্যা।”
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সিটি কোচ। তার মতে, বিভিন্ন দেশে কাজ ও বসবাসের সুযোগই তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন,
“আমি কাতালান, আপনি ব্রিটিশ—আমরা কোথায় জন্মেছি, সেটার ওপর আমাদের কী নিয়ন্ত্রণ ছিল? এটা আমাদের বাবা–মায়ের সিদ্ধান্ত।”
এফএ কাপ–এ স্যালফোর্ড সিটি–র বিপক্ষে ম্যাচের আগে গার্দিওলা আরও বলেন, “প্রতিটি মানুষই নিজের, পরিবারের ও বন্ধুদের জন্য ভালো জীবন ও ভালো ভবিষ্যৎ চায়। অনেক সময় সেই সুযোগ জন্মভূমিতে পাওয়া যায়, আবার কখনো অন্য কোথাও গিয়ে পাওয়া যায়।”
ত্বকের রং বা জন্মস্থান যেন কোনো বিভাজনের কারণ না হয়—এ কথাও স্পষ্ট করে বলেন তিনি। গার্দিওলার ভাষায়, “আজকের দিনে কার গায়ের রং কী, বা সে কোথায় জন্মেছে—এগুলো কোনো পার্থক্য তৈরি করা উচিত নয়। এই জায়গায় আমাদের এখনো অনেক কাজ বাকি।” তিনি যোগ করেন, “আমি কাতালান বলেই যে কারও চেয়ে ভালো—এমনটা আমি মনে করি না। মেক্সিকো, কাতার, ইতালি, ইংল্যান্ড বা জার্মানিতে থাকার অভিজ্ঞতাগুলোই আমার ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করেছে।”
সবশেষে অভিবাসন প্রসঙ্গে গার্দিওলার মানবিক বার্তা, “অধিকাংশ মানুষ শখের বশে দেশ ছাড়ে না, নিজের দেশের সমস্যার কারণেই তারা অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য হয়। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে অন্য সংস্কৃতিকে গ্রহণ করতে পারি, তাহলেই সমাজ আরও সুন্দর হবে।”