নাভালনিকে হত্যার নতুন যে তথ্য জানা গেল 

রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে হত্যায় ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’ নামের এক প্রজাতির ব্যাঙের বিষ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচটি দেশ। নাভালনির শরীরে ‘এপিব্যাটিডিন’ বিষের উপস্থিতির দাবি করে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসসহ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

তবে নাভালনিকে ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’-এর বিষ ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের পাঁচ দেশের উত্থাপিত অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। এক বিবৃতিতে লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এ দাবিকে ‘আজগুবি গল্প’ এবং পশ্চিমাদের দুর্বল চিন্তাভাবনার বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে।

জানা যায় ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’ হলো উজ্জ্বল নীল, লাল, সবুজ কিংবা হলুদ রঙের এসব ব্যাঙ, যা নিমেষেই প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ে। অনেকেই এগিয়ে গিয়ে একবার ছুঁয়ে দেখতে চাইতে-ই পারেন। তবে এর ত্বক স্পর্শ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আকারে ক্ষুদ্র হলেও অত্যন্ত বিষাক্ত ব্যাঙ ‘পয়জন ডার্ট ফ্রগ’। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ বনাঞ্চলে এদের বসবাস। উইপোকা ও পিঁপড়াসহ বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে ১ দশমিক ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার আকারের এই প্রাণী।

স্থানীয় আদিবাসীরা একসময় তীরের মাথায় এ ব্যাঙের বিষ ব্যবহার করে শিকার করতেন। সেখান থেকেই ‘পয়জন ডার্ট’ নামের উৎপত্তি। শিকারির হাত থেকে রক্ষা পেতে এ প্রজাতির ব্যাঙ ত্বক থেকে ‘এপিব্যাটিডিন’ নামের এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ নি:সরণ করে। মারাত্মক এই নিউরোটক্সিন শরীরে প্রবেশ করে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে; গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের বিষ মূলত খাদ্য থেকেই উৎপন্ন হয়। বন্দি অবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হলে এই ব্যাঙ আর বিষ তৈরি করে না।