পাকিস্তানকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দিল ভারত

ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ইশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫, সালমান ১/১০, উসমান ২৪/১)।

আবহাওয়া বার্তায় ছিল বৃষ্টির বার্তা, তবে ভারত মহাসাগর থেকে উড়ে আসা মেঘমালা বর্ষণ ঘটায়নি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। বরং ঈষাণ কোণে জমা মেঘ থেকে ঈষাণ কিষাণের ব্যাটে উঠেছে ঝড়। সেই ঝড়েই শুরুতে লন্ডভন্ড পাকিস্তান, যেটা সামাল দিয়েছেন সাইম আইয়ুব। শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারতের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে ঈষাণ কিষাণ যে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাষ দিয়েছিলেন, পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা সেই রান তোলার গতিটা ধরে রাখতে পারেননি। বরং ৬ স্পিনার নিয়ে পাকিস্তান ভারতকে আটকে রেখেছে মাঝারি সংগ্রহের গন্ডিতেই।

টস জিতলেন সালমান আগা। টসের পর দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। পাকিস্তান আগে বেছে নেয় বোলিং। সালমানের অনুরোধে অভিষেক শর্মাকে খেলানোর কথা জানিয়েছিলেন সূর্যকুমার। সালমান নিজেই প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসে নিয়েছেন অভিষেকের উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা অভিষেককে ০ রানেই আউট করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তবে সেই স্বস্তিটা বেশিক্ষণ থাকেনি গ্যালারির সবুজ অংশে। মুখোমুখি হওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম বলেই মিড-উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারা ছক্কায় ঈষাণ বুঝিয়ে দেন, দিনটা তারই। লম্বা সময় দল থেকে ছিলেন বাইরে। অসাধারণ পারফর্ম্যান্স মুশতাক আলি ট্রফিতে। তাতেই বিশ্বকাপের দলে ঢুকলেন এবং উইকেটরক্ষক ও উদ্বোধনী ব্যাটসমানের ভূমিকায় দলে নিয়মিত হয়ে ওঠা সঞ্জু স্যামসনকে একাদশের বাইরে ঠেলে দিলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঈষাণ আর তিলক বর্মার ৪৬ বলে ৮৭ রানের জুটি। তাতে ঈষাণের অবদান ৩৮ বলে ৭৮, তিলক ঝড়ের বিপরীতে শান্ত; ৮ বলে ১১। সাইম আইয়ূবের বলে বোল্ড হয়ে ইষাণের বিদায়। 

এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক সূর্যকুমার, তিলক বর্মার সঙ্গে তার জুটিটা ৩৪ বলে ৩৮ রানের। সাইম এসে পরপর দুই বলে তিলক আর হার্দিক পান্ডিয়াকে আউট করলে জোড়া আঘাতে রান-রেট কমে আসে ভারতের। এরপর শিভম দুবে ২৭ আর রিঙ্কু সিং ১১ রান করলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। সাইম ৩ উইকেট নিয়েছেন ২৫ রান খরচায়। আলোচিত স্পিনার উসমান তারিক ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবের উইকেট। তবে তাতে উসমানের বোলিং দক্ষতার অবদান সামান্যই। ম্যাচের ১৯তম ওভারের পঞ্চম বল, তখন যে কোন ব্যাটসমানই হাওয়াই পথে বল বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করবেন। সাইম ক্যাচ ধরেছেন বাউন্ডারি লাইনে। এর বাইরে উসমান তারিক খুব কমই চাপে ফেলতে পেরেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানদের। অথচ আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়েই গুচ্ছের প্রশ্ন! এরকম উইকেটে মিডিয়াম পেসার ফাহিম আশরাফকে কেন বল দিলেন না সালমান আগা সেটাও একটা প্রশ্ন। তার স্লো মিডিয়াম বল হতে পারত কার্যকর, যেটা বলছিলেন ধারাভাষ্যকাররাও। হয়তো শাহিন শাহকে ২ ওভারে ৩১ রান দিতে দেখেই সালমান সাহস করেননি!