টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানের শোচনীয় পরাজয় যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এই হারের পর পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর রীতিমতো আক্রমণ চালিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফের মতো সাবেক তারকারা। তাদের দাবি—বড় ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ‘সুপারস্টার’দের বসিয়ে এখন তরুণদের হাতেই তুলে দেওয়া হোক দলের হাল।
একটি পাকিস্তানি নিউজ শো-তে উপস্থিত হয়ে সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি সরাসরি প্রধান তিন খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তার ভাষায়,'যদি আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, তবে আমি শাহীনকে বাইরে বসাতাম, বাবরকে বসাতাম এবং শাদাবকেও বেঞ্চে রাখতাম। আমি নতুন ছেলেদের খেলাতাম এবং তরুণদের সুযোগ দিতাম। আমরা অনেক দিন ধরে এই একই খেলোয়াড়দের দেখে আসছি—তারা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। প্রত্যেকবার আমরা আশা করি বড় দলের বিপক্ষে তারা পারফর্ম করবে, কিন্তু তারা পারছে না। এরা যদি সিনিয়র খেলোয়াড় হয়ে ডেলিভার করতে না পারে, তবে কেন আমরা রিজার্ভ বেঞ্চের তরুণদের সুযোগ দেব না? তারা খেললে খুব বেশি কী তফাৎ হতো?'
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তিন সুপার স্টারের পরিসংখ্যান-
বাবর আজম: ১৭৬ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫ রান (৭ বল) করে আউট হন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার মন্থর ব্যাটিং ও দ্রুত বিদায় দলকে চরম চাপে ফেলে দেয়।
শাহীন আফ্রিদি: পেস আক্রমণের নেতা হয়েও ২ ওভারে খরচ করেন ৩১ রান। বিশেষ করে ইনিংসের দ্বিতীয় এবং শেষ ওভারে ১৬ করে রান দিয়ে ভারতকে বড় সংগ্রহে পৌঁছে দেন।
শাদাব খান: বোলিংয়ে এক ওভারে ১৭ রান দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও মাত্র ১৪ রান করে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং গ্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি নাম উল্লেখ করে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন:
'শাহীন, বাবর এবং শাদাব—তোমাদের সময় শেষ। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে এখন নতুন পারফর্মার দরকার, দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে মূল্যহীন জয় দিয়ে জাতিকে ভোলানোর দিন শেষ।"
আহমেদ শেহজাদ একে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের পারফরম্যানস করুণ ক্রিকেট বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সরাসরি বলেন, 'একই পুরনো মুখ, একই পুরনো ফলাফল। দয়া করে জাতিকে আর বোকা বানাবেন না।' অন্যদিকে সাবেক পিসিবি প্রধান রমিজ রাজা পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ‘একটি বড় বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, ভারত গত কয়েক বছর ধরে একই বোলিং অ্যাটাক নিয়ে খেলছে, অথচ পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনো উন্নতিই করতে পারেনি।