বাম হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে মাঠে ফিরেই দারুণ পারফর্ম করলেন ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমার। রবিবার সান্তোসের হয়ে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোলের অ্যাসিস্ট করেন তিনি। সাও পাওলো রাজ্যের শীর্ষ লিগ কাম্পেওনাতো পাউলিস্তার এ ম্যাচ সান্তোস ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত করে ভেলো ক্লুবকে।
বিরতির পর নেমেই সক্রিয় ছিলেন নেইমার। তবে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ভেলো ক্লুবের ডিফেন্ডার ইস্লানের একটি স্লাইডিং ট্যাকলে কিছুটা কষ্ট পান নেইমার। রেফারি ওই ফাউলের জন্য ইস্লানকে হলুদ কার্ড দেখান। চোটের ধাক্কা সামলে তিন মিনিট পরই ঘুরে দাঁড়ান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বারবোসা–কে দিয়ে গোল করান তিনি, যা ছিল ম্যাচে সান্তোসের পঞ্চম গোল। এই জয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আট নিশ্চিত করেছে সান্তোস। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নভোরিজোন্তিনো
চোটের কারণে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্ব পেরিয়ে এই ম্যাচেই মৌসুমে প্রথমবার খেললেন তিনি। সামনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি—ফেরাটা তাই ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। পরের ম্যাচগুলোতে নিজেকে আরও প্রমাণ করে বিশ্বকাপ দলে জায়গার দাবিটা জোরালো করতে চাইবেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে সান্তোসের আর্জেন্টাইন কোচ হুয়ান পাবলো ভোয়ভোদা বলেন, “আমার মনে হয় সবারই নেইমার দরকার—সান্তোসের, জাতীয় দলেরও। সে যদি ভালো খেলতে থাকে, আনচেলত্তিও খুশি হবেন। একটার পর একটা বিষয় এমনিতেই মিলবে। সে বিশ্বমানের খেলোয়াড়।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওর ভেতরের জয়ের ক্ষুধা এখনো আগের মতোই আছে। অনুশীলনের ছোট খেলাতেও দেখি—ও থাকতে চায়, জিততে চায়। এই মানসিকতাই ওকে এগিয়ে নিচ্ছে।”
নেইমার ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল ছাড়ার পর ফেরেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। গত মৌসুমের বড় অংশে হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগলেও পরে হাঁটুর চোট নিয়েই খেলেন এবং দলকে অবনমন থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সান্তোসে দ্বিতীয় দফায় খেলার সময় এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচে ১১ গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন চুক্তিতে সই করে তিনি ক্লাবটিতে থাকছেন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।