সিরিয়ার ‘আইএস’ শিবির থেকে স্বজনদের ফেরাবে না অস্ট্রেলিয়া

সিরিয়ার বন্দিশিবিরে আটকে থাকা কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্যদের পরিবারগুলোকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের সহায়তা করবে না অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার তাদের প্রত্যাবাসনে কোনো উদ্যোগ নেবে না। তবে তারা যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে আসে, তবে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বলেন, ‌‘আমাদের অবস্থান অত্যন্ত সুষ্পষ্ট; আমরা তাদের কোনো ধরনের সহায়তা বা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করছি না।’

রয়টার্সের তথ্যমতে, সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উত্তর সিরিয়ার একটি ক্যাম্প থেকে ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হলেও ‘কারিগরি কারণে’ তাদের পুনরায় ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই গোষ্ঠীটিকে ‘আইএস বধূ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে বেশ কিছু শিশুও রয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, তারা দামেস্ক হয়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সিরিয়ার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই দলের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের জানা উচিত যে, তারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকে এবং অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসে, তবে তাদের আইনের পূর্ণ শক্তির মোকাবিলা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় আইএস একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণের শাস্তি হিসেবে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতাও সরকারের রয়েছে।

আইএস সদস্যদের আত্মীয়দের দেশে ফেরা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী ও কট্টর দক্ষিণপন্থী দল ওয়ান নেশন-এর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দলটির নেত্রী পাউলিন হ্যানসন স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তবে তার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন খোদ তার দলেরই কিছু সদস্য। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ওয়ান নেশন পার্টির জনসমর্থন এখন রেকর্ড ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রথাগত মধ্য-ডানপন্থী জোটের সম্মিলিত সমর্থনের চেয়েও বেশি।

লিবারেল পার্টির সিনেটর সারাহ হেন্ডারসন এবিসি-কে বলেন, ‘যারা আইএস-এর উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাদের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে দেওয়া উচিত নয়।’ তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের নিজ দেশে প্রবেশের আইনি অধিকার রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স