রাশিয়াকে রুখতে ইউরোপের ‘মহাসতর্কবার্তা’

‘প্রতিরক্ষা কেবল সেনাবাহিনীর কাজ নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব’- জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের যৌথ ঘোষণা।

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে সামরিক খাতে বরাদ্দ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ দুই সামরিক কর্মকর্তা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে এখন সাধারণ মানুষকে ‘কঠিন সিদ্ধান্তের’ মুখোমুখি হতে হবে।

যুক্তরাজ্যের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এবং জার্মানির ‘ডাই ওয়েল্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক যৌথ নিবন্ধে জার্মানির চিফ অব ডিফেন্স জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ের এবং যুক্তরাজ্যের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ এয়ার মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন এই উদ্বেগের কথা জানান।

প্রতিরক্ষা প্রধানরা লিখেছেন, ‘মস্কোর সামরিক শক্তিবৃদ্ধি এবং ইউরোপে যুদ্ধ করার মানসিকতা- যার প্রমাণ ইউক্রেনে পাওয়া যাচ্ছে-আমাদের জন্য এক বড় ঝুঁকি। আমাদের এখন যৌথভাবে এই সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ‘অস্বস্তিকর সত্যের’ মুখোমুখি হতে হবে।’

তারা আরও যোগ করেন, মস্কোর লক্ষ্য কেবল বর্তমান সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাই শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জনকল্যাণমূলক খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল (পিস ডিভিডেন্ড), তা কমিয়ে হলেও সামরিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

নিবন্ধে বলা হয়, গত দশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা যথেষ্ট নয়। সেনাপ্রধানদের মতে, ‘অস্ত্রসজ্জিত হওয়া মানে যুদ্ধবাজি নয়; বরং এটি নিজের জনগণকে রক্ষা এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, এই নিবন্ধটি তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ন্যাটোর নেতারা ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয়ের অঙ্গীকার করেছেন।

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের সমর্থন। ইউরোপের প্রধান দুই দেশেই জনমত এখন পর্যন্ত এই ব্যয় বৃদ্ধির বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ নাগরিক প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে বাড়তি কর দেওয়া কিংবা জনসেবা খাতের বাজেট কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, জার্মানিতেও চিত্রটি প্রায় একই রকম। সেখানে পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, অন্য খাতের অর্থ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ। সাধারণ মানুষের এই অনীহা কাটিয়ে একটি সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলাকেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সামরিক প্রধানরা। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর একার কাজ নয়, বরং এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশই বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্রিটেন ছয়টি নতুন গোলাবারুদ কারখানা তৈরি করছে এবং জার্মানি তাদের পূর্ব সীমান্তে নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরই উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরে যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’-এর নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হবে। রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানো এবং সমুদ্রের তলদেশের অবকাঠামো রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি এক বিবৃতিতে বলেন, এই মোতায়েন ব্রিটেনকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখবে এবং ন্যাটোর শক্তি বৃদ্ধিসহ মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

সূত্র: সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত