প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
বার্লিনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, বাকি নথিগুলো প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং সেগুলো দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। সম্প্রতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সম্পর্কিত লাখ লাখ পৃষ্ঠা প্রকাশ করলেও, প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা গোপন রাখা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, এসব নথিতে ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, শিশু নির্যাতনের বর্ণনা বা চলমান তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সংবেদনশীল উপাদান রয়েছে।
বিচার বিভাগ দাবি করেছে, 'এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট' অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলছেন, প্রকাশিত তথ্য অসম্পূর্ণ।
এদিকে হিলারি ক্লিনটন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক ও তার অপরাধসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছিল—তা তদন্ত করছে কমিটি। প্রথমে কংগ্রেস অবমাননার প্রস্তাব আনা হলেও সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। বিল ক্লিনটন ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং হিলারি ক্লিনটন ২৬ ফেব্রুয়ারি হাজির হবেন।
হিলারি ক্লিনটন এই শুনানি প্রকাশ্যে করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমাদের লুকানোর কিছু নেই' এবং পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় জেফরি এপস্টিনের মৃত্যু হয়। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে নাম উল্লেখ থাকলেও ট্রাম্প যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, বহু বছর আগে তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। হিলারির মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত এবং এপস্টিনের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।