আলোচনায় খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া

প্রথমে নিয়োগ পেয়েছিলেন রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বৈদেশিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দরকষাকষি এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে অন্তত তিনটি বৈঠকসহ বিভিন্ন কারণে গত দেড় বছর ধরে আলোচনায় ছিলেন তিনি। এবার গতকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ পেয়ে আবারও এসেছেন আলোচনায়।

বলা হচ্ছে ড. খলিলুর রহমানের কথা। যিনি পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে দেশের সিভিল সার্ভিসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৯৭৯ সালে যোগ দিয়েছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে জাতিসংঘে বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি এবার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন। গতকাল তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

গত দেড় বছর বৈদেশিক সম্পর্কের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের চেয়ে খলিলুর রহমানের প্রভাব ছিল বেশি।

অন্তর্বর্তী সরকারের একজন সদ্য সাবেক উপদেষ্টাকে কেন বা কীভাবে প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, এ বিষয়ে কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ এ নিয়োগে যৌক্তিকতাও খুঁজে পেয়েছেন।

পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে চারটি দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া একজন বিশ্লেষক বলেন, প্রায় দুই দশক বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশে^ বৈদেশিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ভেতর থেকে জানেন এবং প্রতিবেশী ভারতসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কিছু যোগাযোগ আছে, এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বিএনপির পছন্দের তালিকা খুব সীমিত ছিল। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. খলিলুর রহমানের ভূমিকার বিষয়েও বিএনপি অবহিত ছিল। এসব কারণে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও বিএনপির শীর্ষ নেতা নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থায় যেতে পেরেছেন।

এই বিশ্লেষক বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনায় অব্যাহত যোগাযোগ রাখা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ ক্ষেত্রে হয়তো খলিলুর রহমান সহায়ক হতে পারেন। তবে তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে যদি নতুন সরকার জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান বদলাতে চায়।

তবে খলিলুর রহমানের এ নিযুক্তি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের পছন্দ হয়নি। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকায় খলিলুর রহমানের বিএনপি সরকারে যোগদান নৈতিক দিক থেকে ঠিক হয়নি।

মার্কিনিদের সঙ্গে খলিলুর রহমানের যোগাযোগ থাকার দিকটি উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. লুবনা ফেরদৌসী ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশ একদিকে ঝুঁকে বেঁচে থাকার দেশ ছিল না। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যÑ সব দিক সামলে চলাই ছিল আমাদের কৌশল। এই নিয়োগ সেই কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।’