জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি প্রয়োগ করার বিষয়টি যুক্ত করে সংশোধিত সরকারি ক্রয় অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এ অধ্যাদেশ ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে সংজ্ঞায়িত হবে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ক্রয়সংশ্লিষ্ট সবার পেশাগত সততার গুরুত্ব ও অসদাচরণ স্পষ্টীকরণসহ এতে নিরীক্ষা রিপোর্ট দাখিলের সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভার ২১তম সভায় এ অধ্যাদেশ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত বিল পাস হয়। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়, পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ে শুধু দাম নয় একাধিক নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন করা যাবে। সরকারি ক্রয়ে শুধুমাত্র ‘কত কম দামে পাওয়া যাবে’ প্রশ্নের বদলে বাজার পরিস্থিতি ও বণ্টনব্যবস্থা এবং এর গুরুত্বও বিবেচনায় নিতে হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়, সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা; ক্রয়কার্যে অধিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিধান সম্প্রসারণ, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালির আধুনিকায়ন, টেকসই ক্রয়ব্যবস্থার অধিক সংস্থানের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন (আন্তর্জাতিকভাবে বহুল চর্চিত রেটেড ক্রাইটেরিয়া ধারণার সমার্থক), সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট বিধান স্পষ্টীকরণ, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থার সংস্থান (অলটারনেটিভ প্রকিউরমেন্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট) ইত্যাদি যুগোপযোগী পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জ্বালানি সংকট উত্তরণে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ এলএনজি কিনেছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় হলেও শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও আবাসিক সংযোগে সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হয়।