উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আবারও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। বর্তমান খেলোয়াড়, সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকেরা ঘটনাটিকে ‘ফুটবলের জন্য লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু এই ঘটনায় বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহোর মন্তব্য ফুটবল দুনিয়ায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
লিসবনে বেনফিকার মাঠে ম্যাচ চলাকালে ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন যে আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি তার উদ্দেশে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে জানালে খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে এবং রিয়ালের খেলোয়াড়রা সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়েন। পরে খেলা শুরু হলে ১-০ গোলে জয় পায় রিয়াল। ম্যাচ শেষে সামাজিক মাধ্যমে ভিনিসিয়ুস লিখেন, ‘বর্ণবাদীরা কাপুরুষ। তারা নিজেদের দুর্বলতা লুকাতে চায়। আজ যা ঘটেছে, আমার জন্য বা দলের জন্য নতুন কিছু নয়।’
কিন্তু ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মরিনহো মনে করছেন, গোল করার পর ভিনিসিয়ুসের উদযাপন সম্মানজনক ছিল না। তার ভাষায়, ‘কিছু একটা ভুল আছে, কারণ প্রায় প্রতিটি স্টেডিয়ামেই এমন ঘটনা ঘটে। যে স্টেডিয়ামেই ভিনিসিয়ুস খেলতে যায়, কিছু না কিছু ঘটে। এটা তো খেলার চরম উন্মাদনার মুহূর্ত হওয়ার কথা ছিল। অসাধারণ এক গোল করেছে সে। কিন্তু সে শুধু গোল করে খুশি হয়নি। এমন গোল করলে সম্মানজনকভাবে উদযাপন করা উচিত।’
মরিনহো আরও যোগ করেন, ‘আমি তাকে বলেছি, এমন গোল করলে উদযাপন করে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে হয়। আমাদের ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানুষ ইউসেবিও কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন। এই ক্লাবকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয়।’
রিয়ালের সাবেক মিডফিল্ডার ক্লারেন্স সিডর্ফ মরিনহোর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি আবেগে কথা বলেছেন। আজ তিনি বড় ভুল করেছেন, কারণ এতে বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। কেউ যদি আপনাকে উসকে দেয়, তাই বলে বর্ণবাদী হওয়া ঠিক—এমন কথা কখনও বলা যায় না।’
ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড বলেন, ‘আজ রাতে যা ঘটেছে, সেটা ফুটবলের জন্য লজ্জা। এটা আমাদের পারফরম্যান্স এবং অসাধারণ গোল—সবকিছুকে ঢেকে দিয়েছে। ফুটবল বা সমাজ—কোথাও এর জায়গা নেই। এটা জঘন্য।’
রিয়ালের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমার সঙ্গে কখনও ঘটেনি। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলা জরুরি। আমার মতে, এমন আচরণ করলে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলার অধিকার থাকা উচিত নয়। বিষয়টি এখন উয়েফার হাতে, আশা করি তারা ব্যবস্থা নেবে।’
সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড থিও ওয়ালকট বলেছেন, ‘এমন বিষয় মাসের পর মাস ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ আর সাবেক ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ভিনিসিয়ুসের অবস্থাটা বুঝতে পারি। আমার সঙ্গেও বহুবার এমন হয়েছে। তখন নিজেকে একা লাগে, কারণ আমরা জানি না আসলে কী বলা হয়েছে।’ আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় লেগে মাদ্রিদে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল।