চোখের জলে না বলা গল্প শোনালেন ভিনিসিয়ুস

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশনের প্রধান কাণ্ডারি ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মাঠের ফর্মে দুর্দান্ত থাকা ২৫ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এবার বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বর্ণবাদ বিরোধী নতুন ফিফা আইন এবং হেক্সা জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুখ খুলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম "দোমিঙ্গাও কম হাক"-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক লুসিয়ানো হাকের সামনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ের (যেখানে ভিনি জোড়া গোল করেন) পর এই সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়।

ম্যাচ শেষে দাদী দোনা নিলজার পাঠানো একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা দেখে স্টুডিওতেই কেঁদে ফেলেন ভিনিসিয়াস। দাদীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 

"আমার দাদী আমার জীবনে অত্যন্ত বিশেষ একজন মানুষ। বাবার কাজের সূত্রে দূরে থাকার কারণে মা ও ভাইবোনদের নিয়ে আমি দাদীর সাথেই বড় হয়েছি। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আমি ওনার সাথেই ছিলাম। আমাদের বাড়িটা খুব ছোট ছিল, তাই দিনের পর দিন আমি দাদীর পাশে এক বিছানায় ঘুমাতাম। ওনাকে নিয়ে বলার মতো আমি ভাষা হারিয়ে ফেলি, তিনি আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছেন।"

চোখের জল মুছতে মুছতে ভিনি আরও যোগ করেন, "আমি জানি একদিন আমাদের ভালোবাসার মানুষেরা আর এই পৃথিবীতে থাকবেন না। তাই ওনার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি মনে গেঁথে রাখি। আমার স্বপ্ন পূরণ করতে তারা নিজেদের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজ ওনাকে হাসিখুশি দেখতে পাওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।"

‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া

ফুটবল মাঠে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ভিনির আপসহীন লড়াইয়ের কারণে ফিফায় এখন একটি নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে, যা ফুটবল মহলে ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিত। এই নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনো খেলোয়াড় অন্য কাউকে গালিগালাজ বা বর্ণবাদী মন্তব্য লুকিয়ে করার জন্য মুখের সামনে হাত চাপা দিলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড (বহিষ্কার) দেওয়া হবে।

চলতি বিশ্বকাপেই তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে এই নিয়মের আওতায় লাল কার্ড দেখেছেন প্যারাগুয়ের তারকা আলমিরন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় প্রেস্তিনির বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার পর ভিনির প্রতিবাদের প্রেক্ষিতেই এই কঠোর নিয়ম চালু করে ফিফা।

মাঠের বাইরের এই অর্জন নিয়ে ভিনি বলেন, 

"মাঠের ট্রফির চেয়েও মাঠের বাইরের এই সাফল্যগুলো আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমি অনেক বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারি। আমার ৭ বছর বয়সী একটি ছোট ভাই আছে, আমি চাই না সে বড় হয়ে বর্ণবাদের শিকার হোক। আমি কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে চাই, যাদের আমার মতো উঁচুতে গলা তোলার কণ্ঠস্বর নেই।"

 

‘ষষ্ঠ তারকা পেতে বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে’

২০০২ সালে ব্রাজিল যখন শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল, ভিনি তখন এক বছরের শিশু। আগামী ১২ জুলাই ২৬ বছরে পা রাখতে যাওয়া এই তারকা এবার ব্রাজিলের ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘোচাতে মরিয়া।

বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে নিজের তীব্র আকুলতা প্রকাশ করে ভিনি বলেন:

"এই প্রজন্মটি ব্রাজিলকে আবারও চূড়ায় নিয়ে যেতে কঠোর পরিশ্রম করছে। ব্রাজিলের জার্সিতে ওই ষষ্ঠ তারকাটি (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়) যোগ হতে বড্ড বেশি দেরি হয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আনচেলত্তি আমাদের স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি দিয়েছেন। দলে নেইমার, ক্যাসেমিরো, মার্কিনহোসদের মতো অভিজ্ঞরা আছেন বলেই আমাদের মতো তরুণদের (এনড্রিক, রায়ান) পথ চলা সহজ হচ্ছে।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত