৮ বছর দুবাইতে পলাতক থাকার পর দেশে ফেরা ছাত্রলীগের সাবেক এক ক্যাডারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিন নগর এলাকায় লিঙ্ক রোড থেকে এক সহযোগীসহ ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৭) নামে ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একসময় ‘ছাত্রলীগের ক্যাডার’ হিসেবে কিশোর গ্যাং নেতা হয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন চট্টগ্রাম নগরীতে। আলোচিত এক স্কুলছাত্রী খুনের মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে যান দুবাইয়ে। আট বছর পর দেশে ফেরেন আর তার কয়েক মাসের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই ছাত্রলীগ ক্যাডার তখন আবির্ভূত হন মধ্যপ্রাচ্যে পলাতক শিবির ক্যাডার বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে। দাপটের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছিলেন চাঁদাবাজি-অস্ত্রবাজি। আবার সেই সাজ্জাদের সঙ্গেই পরে দ্বন্দ্বে জড়ান।
ইমতিয়াজ নগরের মুরাদপুর এলাকার ফরেস্ট গেট এলাকার মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে। র্যাব-৭ জানায়, ইকরামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আবুল কামাল আজাদকেও (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ইকরামের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের দু’টি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, অস্ত্র কেনাবেচা করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইকরাম ও তার গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় আট বছর আগে ইকরাম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছিলেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার পরিচয়ে রিচ কিডস নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করতেন। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন খুনের মামলায় আসামি হওয়ার পর ইকরাম দুবাইয়ে পালিয়ে যান। সেখানে থাকা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সঙ্গে তার সখ্যতা হয়। সেখান থেকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন তিনি।