ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়ামগুলোতে অননুমোদিত ড্রোনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে মেক্সিকোর সামরিক বাহিনী। গত মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটির একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেশটির সেনারা তাদের ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন, যা বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।
মূলত অপরাধী গোষ্ঠী বা ড্রাগ কার্টেলগুলোর ক্রমবর্ধমান ড্রোন ব্যবহারের কারণেই এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেক্সিকোর অপরাধপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে কার্টেলগুলো বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে কেনা সাধারণ ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
যদিও বিশ্বকাপের তিনটি ভেন্যু—মেক্সিকো সিটি (কেন্দ্রীয় অঞ্চল), গুয়াদালাজারা (পশ্চিম) এবং মনটেরি (উত্তর)—এই সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বেশ দূরে অবস্থিত, তবুও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার হোসে আলফ্রেডো লারা এএফপি-কে জানান, মূলত স্টেডিয়াম এবং যেখানে জনসমাগম বেশি হবে (যেমন: ফ্যান ফেস্ট), সেখানে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সেনারা দুই ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন: সেমি-মোবাইল সিস্টেম: এটি একটি নির্দিষ্ট সীমানা বা পেরিমিটার তৈরি করবে, যার ভেতর কোনো অননুমোদিত ড্রোন প্রবেশ করতে পারবে না। পোর্টেবল সিস্টেম: এটি বহনযোগ্য একটি যন্ত্র, যা দিয়ে লক্ষ্যবস্তু ড্রোনকে চিহ্নিত করে সেটি লক্ষ্য করে সংকেত পাঠানো যাবে।
যখনই কোনো অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত হবে, এই যন্ত্রটি ড্রোনটির সাথে এর চালকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ফলে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে এবং স্টেডিয়ামের কাছে আসতে পারবে না। ড্রোনটি হয় আগের অবস্থানে ফিরে যাবে অথবা ডিজিটাল ইন্টারসেপশনের কারণে অকেজো হয়ে পড়বে।
গত পাঁচ বছরে মেক্সিকোর অপরাধী গোষ্ঠী যেমন—সিনালোয়া কার্টেল, জালিস্কো নিউ জেনারেশন (CJNG) এবং ফ্যামিলিয়া মিচোয়াকানা—তাদের অস্ত্রাগারে ড্রোনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইনসাইট ক্রাইম-এর তথ্যমতে, মিচোয়াকান, চিহুয়াহুয়া এবং গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যে এই ড্রোনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এমনকি গত বছরের অক্টোবরে টিজুয়ানা শহরে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।