মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা সহজে ভেসে বেড়ান। কেন? বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, সেখানে মহাকর্ষ বলের মান শূন্য। ফলে মানুষ বা অন্য কিছু ভেসে থাকতে পারে। এই ধারণাটা ভুল। মহাকাশ স্টেশনে মহাকর্ষ বলের মান পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ। মহাকাশে যে স্যাটেলাইট ঘুরছে, সেগুলো মাটিতে পড়ে যাচ্ছে না, এর কারণও এই নয় সেখানে মহাকর্ষ বল শূন্য। আসলে, মহাকাশ স্টেশন বা স্যাটেলাইট প্রচণ্ড গতিতে ঘোরে। এগুলো সোজাসুজি ছোটে। এর ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সোজা মহাশূন্যে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু যাচ্ছে না পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টানের কারণে। মহাশূন্য স্টেশনের গতিশক্তি একে সোজাপথে চালাতে চায়, কিন্তু পৃথিবীর মহাকর্ষ বল স্টেশনকে নিচের দিকে টানছে। এই দুই বলের লব্ধি বা ফলাফলের কারণেই স্পেস স্টেশন কোনো দিকে যেতে পারছে না। স্যাটেলাইটগুলোও এ কারণে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। চাঁদও একই কারণে ঘুরছে। মহাকাশ স্টেশন এবং নভোচারী একই গতিতে পৃথিবীর দিকে সব সময় পড়ছেন। কিন্তু পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কারণে তারা মাটিতে আছড়ে না পড়ে, অনবরত ঘুরছেন। যেহেতু স্টেশন এবং নভোচারী একই হারে পড়ছেন, তাই নভোচারীর মনে হয় তিনি ভাসছেন। কিন্তু এ সবের অর্থ এই নয় যে, স্পেস স্টেশনে বা স্যাটেলাইটের কক্ষপথে মহাকর্ষ বলের মান শূন্য। স্রেফ মহাকর্ষের টানে মুক্তপতনের কারণেই স্টেশনের ভেতরে তিনি ভাসছেন।