কামরুল ইসলামের কবিতা

গগনশিরিষের মাথায় আমাদের সরল উঠোন

 

এ পুরনো দেহ ধুয়ে-মুছে তোমার দিকে এগোচ্ছি

সন্দেহ পিছনে পিছনে হাঁটছে, আর তুমি দোযখের

কোয়ান্টম সিঁড়ি ভেঙে অলৌকিক মথের ডানায়

এঁকে দিচ্ছ শালবনের হারানো ছায়ার মৃদু সংগীত

 

এপারের ঘাটে নুয়ে পড়া বটগাছের সংহত মর্সিয়া

যবখেতের পুণ্য বিকেলের আল ধরে চলে যায়

মানুষ তার গোপন মন্ত্রে সেই চলে যাওয়ার ঘ্রাণ এঁকে

আবার জেগে উঠছে নিরুদ্দেশ হাওয়ায়, এসো আজ

সুবোধ দর্জির ঘরে, বটফলের ইশারাগুলো রিপু করে

বিলের আঁধার পথে নেমে যাই মৌন মিছিলের পাশে

 

গগনশিরিষের মাথায় আমাদের সরল উঠোন

ওইখানে ধান শুকোতে শুকোতে নীল হয়ে ওঠে জগজ্জননী

অসুরেরা রাজবাঁশি বাজায়

 

জলপরীদের নৃত্যের আড়ালে যখন চাঁদ ওঠে

আর দখল হয়ে যাওয়া মৃত নদী যখন

জঙ্গল-বিবাগী মানুষের মতো হাহাকারে ডুবে যায়

খলসে মাছের দুনিয়ায় তখন নিশিকাব্য ফোটে

 

শর্ষে ক্ষেতের সন্ধ্যায় যখন বহে যায় অপূর্ব খাঁ খাঁ

আমি সেই বিরহী তটে ঈশ্বরকণাদের গান শুনি,

তোমার নিঃশব্দ কান্নার পাশে রঙ্গনের কচি কচি

ফুলেরা দুপুরের কতিপয় রহস্য নিয়ে ফিরে যায়

 

এই ভরদুপুরের মায়াটুকু কারও ঘেমে ওঠা

মুখের ছায়ায় ফেলে রেখে যখন ফিরে আসি

দেখি আকাশে অসুরেরা রাজবাঁশি বাজায়

পাহাড়ের ঘুমের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলে যায়

পাথর ও জঙ্গলের গভীর প্রণয়

আমাদের আলস্যঘর

 

যখন নির্জন হাওয়ায় চিত্ত জাগে বন্ধ দরজার

যখন বজ্র ও বিদ্যুচ্চমকে দিশেহারা নির্ঘুম গাছপালা

বুনো ঘাসের চোখের গভীরে তখন তারাফুল ফোটে

 

তোমার ঘুমহীন রাত্রিদিন যার হাতে তুলে দিলে

সেই অন্ধ কাপালিক নেমে গেছে ঘুমের গভীরে

তোমার আলস্যঘর জ্বলে ওঠে দ্রোহের আগুনে

 

অজস্র নদীর স্রোতে, তীরে তীরে, আদিগন্ত মনোপলি

রাজরক্তের সলো সংগীত, উন্মত্ত করতল উড়ছে শূন্যে

পুড়ে গেছে স্বর্ণধাম অশেষ উনুনে

এসেছ যখন, চলো, নসিবের বুড়ো হাড় নিয়ে খেলি...