চড়া দামে ফিকে হচ্ছে রোজার আনন্দ

আজ পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। সকালে সূর্য ওঠার পরপরই রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও তালতলা বাজারে গিয়ে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। সিয়াম সাধনার মাস শুরু হতে না হতেই ইফতার ও সেহরির প্রতিটি পণ্যের দামে যেন আগুন লেগেছে। সাধারণ ক্রেতাদের চোখে-মুখে স্বস্তির বদলে এখন কেবলই দুশ্চিন্তার ছাপ। বাজারের অলিগলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের হাহাকার। বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবুর দাম এখন সাধারণের নাগালের এতটাই বাইরে যে, এক হালি লেবুর দামে অনায়াসেই এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন বাজার চিত্রে দেখা যায়, ভালো মানের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। অথচ পাশেই ফার্মের মুরগির এক ডজন বাদামি ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১১০ টাকায়। গত বছর এই সময়ে যে লেবুর হালি ছিল ৪০-৫০ টাকা, আজ তা কয়েক গুণ বেড়ে মধ্যবিত্তের পকেট খালি করছে। 

বিক্রেতারা বলছেন, সিজন শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম, আর তার ওপর রোজার চাহিদা যোগ হওয়ায় একটি মাঝারি আকারের লেবুর দামই এখন ৩০ টাকা ছাড়িয়েছে।

ইফতারির অন্যতম প্রধান উপাদান সবজির বাজারেও বইছে উত্তাপ। বেগুন ও শসার দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২০ টাকা। মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে আজ সকালে। টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। নিত্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ ৫-১০ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেল, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাইকারি আড়তদারদের কারসাজি ও অধিক চাহিদাকে পুঁজি করে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।

আমিষের বাজারেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও যে ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ সকালে তা ২০০ টাকা ছাড়িয়ে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ৩২০-৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। মাছের বাজারেও একই দশা; তেলাপিয়া, পাঙাশ থেকে শুরু করে রুই-কাতল—সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত চড়া। মাঝারি আকারের একটি রুই মাছ কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকার বেশি।

ফলের বাজারে গিয়ে দেখা গেল আপেল ও মাল্টার আকাশচুম্বী দাম। প্রতি কেজি মাল্টা ৩১০-৩৪০ টাকা এবং আপেল ৩৩০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনে বেড়েছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। ডাল ও ছোলার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও পোশাক কর্মীদের মতে, রমজানে যেখানে দাম কমার কথা, সেখানে প্রতিটি জিনিসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।