ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুরে সম্প্রতি ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস নাটক, যা দেখে উপস্থিত জনতা তো বটেই, সোশ্যাল মিডিয়াও এখন তোলপাড়। ঘটনার মূল নায়ক অজয় নাগর, যিনি পেশায় একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) স্কুল শেষ করে সহযাত্রীদের সঙ্গে গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তার ওপর নজরদারি চালাতে ছদ্মবেশে পিছু নিয়েছেন খোদ তার স্ত্রী। পরকীয়ার সন্দেহ থেকে বোরকা পরে গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছিলেন ওই নারী, আর মোক্ষম সুযোগ মিলতেই ঘটে যায় লঙ্কাকাণ্ড।
সুমলি স্কুলের কাছে গাড়িটি থামামাত্রই বোরকা পরা ওই নারী রণচণ্ডী মূর্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোনো কথা নেই, বার্তা নেই—সরাসরি গাড়ির কাচ ভেঙে চড়-থাপ্পড়ের বৃষ্টি শুরু করেন স্বামীর ওপর। ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে এমন হুলস্থুল কাণ্ড দেখে মুহূর্তেই ভিড় জমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অবাক হয়ে দেখছিলেন এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর এমন আক্রমণ। কিন্তু নাটকের আসল টুইস্ট তখনও বাকি ছিল। ক্ষোভের মাথায় ওই নারী যখন নিজের মুখের আবরণ সরিয়ে ফেললেন, উপস্থিত সবাই বুঝতে পারলেন তিনি আসলে ওই শিক্ষকেরই স্ত্রী!
প্রকাশ্য রাস্তায় এই পারিবারিক রণক্ষেত্রে যোগ দেন অজয় নাগরের মা এবং মেয়েও। একদিকে স্ত্রীর আক্রমণ, অন্যদিকে মাকে রক্ষা করার চেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। কেউ কেউ এই বিরল দৃশ্য মোবাইলে বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ধস্তাধস্তি আর চিল-চিৎকারে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও কিছুক্ষণ পর ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুললেও এই ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করেনি।
পরবর্তীতে মান-সম্মান বাঁচাতে অজয় নাগর থানায় একটি আবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি পরকীয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পুরো ঘটনাটিকে ‘পারিবারিক বিরোধ’ এবং ‘দাম্পত্য কলহ’ বলে উল্লেখ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিও এবং জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তবে নেটদুনিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে চলছে হাসির রোল। শিক্ষক মশাইয়ের এমন ‘গণধোলাই’ খাওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনার শেষ নেই।
আজ সংবাদ সম্মেলন ডাকল এনসিপি