সব সিন্ডিকেট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। নির্দেশ দিয়েছেন তার মন্ত্রীদের। প্রশাসনের ওপরও বর্তাবে সেই নির্দেশনামা। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্র্তৃপক্ষের ওপর এই দায় বেশি। কারণ তারা রাজপথে-জনপথে নিরাপত্তা বিধানের কাজ করে। আবার সামাজিক মানুষেরও দায় অনেক। ভোক্তারা কেবল জিনিসের ক্রেতা হিসেবে দোকানির চাওয়া দামই পরিশোধ করবে না, কেন পণ্যমূল্য বাড়ানো হলো, তা নিয়ে কথা বলতে পারে পুলিশসহ আইনি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে। সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ-কার্যক্রম দৈনন্দিন কাঁচাবাজার থেকে শুরু হলেই ভালো হয়। ভোক্তা, ক্রেতারা প্রতিদিনই কাঁচা জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া দেখছে। প্রতিদিনই শূন্য হচ্ছে তাদের সীমিত আয়ের রোজগারি পকেট। পকেট শূন্য হয়ে পড়লে ক্রেতার আত্মায় পানি থাকে না। ঠোঁট রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। বিষাদে নেতিয়ে পড়ে সেই রোজগেরে মানুষ আর যাদের আয়রোজগার নেই, বেকার, চেয়েচিন্তে খাওয়া মানুষ তাদের দশা কেমন, তা সহজেই অনুমান করা যায়। চাল-ডাল, নুন, মরিচসহ যাবতীয় পণ্যে বাজার ভর্তি হলেও দাম বাড়ছে প্রতিদিনই। তাই কি তেলেবেগুনে জ¦লছে ঢাকার কাঁচাবাজার? এটা যে সিন্ডিকেটের ফল, সেটা সরকারপ্রধান ভালো করেই বুঝেছেন এবং যারা নিত্যই লাভ তুলছেন বাজার থেকে, তারাও জানেন। কিন্তু সেই আড়তদার মহাজনদের টুঁটি ধরতে পারছে না সরকার, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং ক্রেতারা। কারণ ভোক্তা-ক্রেতারা সংগঠিত নয়, যেমনটা সংগঠিত আমদানিকারক, আড়তদার, মজুদদারসহ পুলিশ ও রাজনৈতিক লোকদের সিন্ডিকেট। প্রতিটি স্তরেই লুকিয়ে আছে নানা রকম সিন্ডিকেট। তাদের কারণেই কাঁচাবাজারে চাল-ডাল, কাঁচা সবজির দাম আকাশচুম্বী।

ইতিবাচক দিক হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অনুরোধ জানানোর আগে নিজেদের কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা রক্ষা করা খুব দুরূহ। কারণ আমাদের মনমানসিকতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে আছে অন্যায়, অবৈধ কাজ করার উসকানি-উদ্যোগ। প্রশাসনে দুর্নীতি এমনভাবে কাজ করে, তদবির ছাড়া উচ্চ আর নিম্ন পদে বদলি হয় না। বিশেষ করে পুলিশে এই বদলি-তদবির সচল ও সরব। এর মধ্যেই আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও র‌্যাবের ডিজি পদে ইচ্ছুকরা তদবিরে নেমেছে। কেউ বলতে পারেন, ওই সব পোস্টে যোগ্যদের দেওয়ার জন্য তদবিরের প্রয়োজন নেই। কিন্তু অতীতে আমরা দেখেছি, তদবিরে শিকে ছেঁড়ে। এমন অনেক অযোগ্য বা কম যোগ্যতাসম্পন্ন বা অধস্তনও সিনিয়রদের ডিঙিয়ে ওই সব পদ পেয়ে যায়। নতুন সরকার বলেছে, বদলি-তদবিরে কেউ চেষ্টা করলেই তার নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্ত আমরা ধারণা করি, পতিত চর্চা থেকে ফিরে আসবে পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বক্তৃতা প্রমাণ করছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। আমরা সকাল দেখেই খুশি হতে চাই না। তিনি ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা দিয়েছেন, সেই রোডম্যাপ ধরে এগোতে হবে মন্ত্রী-কর্মীদের। ৬ মাস যাওয়ার পর আমরা বলতে পারব, সত্যই সরকারটি ফলবান হয়ে উঠেছে। তার আগে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলব, তিনি যে সংগ্রামের ওপর বসেছেন, তা পিচ্ছিল ও চোরা-মানসিকতার জালে ত্যক্ত এবং নানা সমীকরণে বিভক্ত। এবার তাকে সজাগ থাকতে অনুরোধ জানাই। পোড়া মুখ দই দেখলেও ভয়ে আঁতকে ওঠে। আমরা তারেক রহমানের সাফল্য চাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, বৃহত্তর জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করতে। তার এই আত্মশুদ্ধিমূলক প্রণোদনা আমাদের ব্যর্থতাগুলোকে ধুয়ে-মুছে দিক, ভুলগুলোকে পরিশুদ্ধ করে তুলুক।  রমজানের কৃচ্ছ্রতার আলোকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তার এবং বিএনপির নেতাকর্মীর। সব ধরনের সিন্ডিকেট নিপাত যাক এই প্রত্যাশায় জনগণ অপেক্ষা করছে।