রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব বাঁধের কারণে একদিকে মাছের অবাধ বিচরণ যেমন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ।
গত কয়েক মাস ধরে এভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করলেও প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া বাজারের পূর্ব পাশে নদীতে বাঁশের বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার। বাঁধের সঙ্গে কারেন্ট জাল ও ঝাঁকি জাল দিয়ে বিশেষ ধরনের ফাঁদ তৈরি করা রয়েছে। সেখানে কোনো মাছ একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না।
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় পার হওয়ার পর নদীতে পানি কমতে থাকে। নদীর স্রোত কমে যায়। এ সময় নদীতে মাছও কমে যায়। অনেকেই বেশি মাছ ধরার জন্য বাঁশের বাঁধ দেন। বাঁধের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জাল পাতা থাকে। মাছগুলো এসে সেই জালের মধ্যে আটকে যায়। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বাঁধ থেকে মাছ আহরণ করা হয়।
প্রধানত ইলিশ শিকারের জন্য এসব বাঁধ দেওয়া হয়। কিন্তু ইলিশ ছাড়াও পাঙাশ, বেলে, পাবদা, রিঠা, আইড়, কাতল, রুইসহ নানা প্রজাতির মাছ এই বাঁধে পাতা জাল ও ফাঁদে আটকা পড়ে।
জৌকুড়া ঘাট এলাকায় একটি বাঁশের বাঁধ দিয়েছেন নবদ্বীপ নামে এক জেলে। তিনি বলেন, একটি বাঁধ দিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর নদীতে মাছ কম। ইলিশ ধরা অভিযানের পর থেকে নদীতে মাছ কম। সারা দিনে যে মাছ হয় তাতে সংসার চলে না। আমাদের বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব উল হক বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিছুদিন আগে নদী থেকে অবৈধ কয়েকটি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। জৌকুড়া ঘাট এলাকায় নতুন করে কেউ বাঁধ দিয়েছে বলে কানে এসেছে। দ্রুতই তা অপসারণ করা হবে।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান বলেন, নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে মাছের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হয়। মাছ স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে না। বাঁধের কারণে মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। মাছের প্রজনন ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের কারণে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছও বিলুপ্ত হয়।