গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষে অন্তত ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০টি কৃষক পরিবার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক শ্রম আর বিনিয়োগ করে হঠাৎ ফসল বিনষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিস ক্ষতি কমানোর পরামর্শ দিচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিল এলাকায় কয়েক শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বেশ কিছু কৃষক। ভালো ফলনের আশায় তারা জমিতে নিবির পরিচর্যা করেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা পর থেকেই জমির পেয়াজের গোড়া পচা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, অনেকেই ধার-দেনা, ব্যাংক ঋণ ও এনজিও থেকে অর্থ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। ফসল ঘরে তোলার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিল। এমন সময় এই ক্ষতির ঘটনায় তারা চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। এখন ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবার-পরিজন নিয়ে সারা বছর কিভাবে চলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্লা বলেন, আমরা অন্য এলাকা থেকে জমি নিয়ে চাষ করেছি। কেউ দুই, কেউ তিন, আবার কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কয়েকদিন পরই পেঁয়াজ তুলতাম। এর মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।
ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্যারাকুয়েট জাতীয় আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। তারা কৃষকদের জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে, পটাশ প্রয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে আংশিক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃষকেরা বলছেন, কৃষিজমিতে এ ধরনের নাশকতা শুধু ব্যক্তিগতই নয়, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন জন্য বড় হুমকি।