বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই ভিসা সেবা বাড়ছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের স্থবিরতা কাটার ইঙ্গিত পাচ্ছেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। তারা বর্তমান অবস্থাকে অনেক দিন জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করার সঙ্গে তুলনা করছেন। আর এ শুরুটা হতে যাচ্ছে একটু একটু করে ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার মধ্য দিয়ে।

এ বরফ গলার আভাস দেওয়াটা শুরু হয়েছে ভারতের দিক থেকে। সিলেটে দেশটির মিশনের সিনিয়র কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা এখন দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণসহ অন্যান্য ভিসা পুনরায় চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলো ভিসা পরিষেবা খুব সীমিত করে দেয়।

এদিকে ভারতের তরফ থেকে ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এমন খবর বেরোনোর পর দেশটির রাজধানী দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনগুলোও ভিসা পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে শুরু করছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের এক কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উগ্রপন্থিদের হামলার ঝুঁকির মুখে গত দুই মাস দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা প্রায় বন্ধ রাখা হয়।

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক গতকাল বলেন, ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি ‘চিঠিপত্র দিয়ে’ করা হয়নি। কাজেই আবার চালু করার জন্যও কোনো চিঠিপত্রের প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দিল্লিতে গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য উন্মুখ।’

বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ক্ষেত্রে সীমিতভাবে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও সেখানে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু আছে।