ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি কোন কোন কাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখবেন।
এই প্রশ্নের আলোকে এবং নির্বাচনী গণসংযোগে তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির সমন্বয়ে দেশ রূপান্তরের দুই পৃষ্ঠার বিশেষ এই আয়োজন। এই আয়োজনে সহায়তা করেছেন দেশ রূপান্তরের তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা প্রতিনিধিরা-
এখনই হবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের কাজ
এখনই শুরু হবে চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বাস্তবায়নের কাজ। এখানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। বাংলাদেশের মানুষের আশা, আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করে দ্রুত পণ্য ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই এর সুফল পাওয়া যাবে। এমন বাজেট হবে, যেখানে জনগণের আগামীদিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল অগ্রাধিকার পাবে
মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস নির্মূলে যা করণীয়, তাই করব। এ ছাড়া আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কাজ করা। পুরনো সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা এবং ক্রীড়া টুর্নামেন্ট চালুর মাধ্যমে খেলাধুলায় তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে খেলার মাঠগুলো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা হবে
একসময় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে ফটিকছড়ির কুখ্যাতি ছিল। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। তবে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের কিছুটা দাপট এখনো আছে। আমার প্রথম কাজ সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা। উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা।
আধুনিক নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে
সন্দ্বীপের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখাই প্রধান কাজ। সন্দ্বীপবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা মূল ভূখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে আধুনিক নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, হোভারক্রাফট চালুর উদ্যোগ ও নিয়মিত ফেরি সার্ভিস নিশ্চিত করা। এ ছাড়া ইউনিয়ন লিংক সড়ক প্রশস্ত ও পাকা করার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা।
পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙা শিল্প গড়ে তোলা
সীতাকুন্ড এলাকার স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি আধুনিক শিল্প ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণ
চকরিয়া পেকুয়াসহ কক্সবাজারের উন্নয়নে কী কী কাজ করা হবে, তা আমার নির্বাচনী জনসভায় বহুবার বলেছি। তবে আমি প্রথমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ করব। এরপর আমার অগ্রাধিকারে থাকবে মাতামুহুরীকে উপজেলা করা। আসলে এ কাজটি বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শুরু করেছিলাম। কিন্তু তখন শেষ করতে পারিনি। এ ছাড়া পেকুয়ায় পৌরসভা গঠন করা হবে। এসব কাজের পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স দেখাবে।
সুষম ও সম-উন্নয়ন হবে পার্বত্য চট্টগ্রামে
পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এ এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার থাকবে। সুষম ও সম-উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করব। বিএনপি যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিশ্বাস করে, তা বাস্তবায়নে সব ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করব। এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, আমরা সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারেক রহমান সাহেব যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব।
ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন
পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি করব। সেই কমিটি এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের এবং বিভিন্ন কাজের যে তালিকা দেবে সে অনুযায়ী কাজ করব। আর তা করতে গিয়ে দল, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা কোনো রাজনৈতিক বিভেদ রাখা হবে না। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকো ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে।
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাউজান গড়ে তোলা
আমার প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাউজান গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শান্তি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি রাউজানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোতে তদারকির মাধ্যমে কাজ করবে। এ ছাড়া রাউজানে চুরি, ডাকাতি, মাটি ও পাহাড়কাটা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকায় পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে কাজ করা হবে।
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জুড়ে মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করা হবে। কর্ণফুলী নদীর পাশাপাশি শীলক খাল ও ইছামতী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপ্রবাহ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে; তেমনি নদীভাঙনও বাড়ছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকার পাশাপাশি শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে কাজ করা হবে।
কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু করাই আমার অগ্রাধিকার
বোয়ালখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘কালুরঘাট সেতু’র নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করাই নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে অগ্রাধিকার। কালুরঘাট সেতু প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিদ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেতুর পাশাপাশি বোয়ালখালীকে একটি উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।